নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের কৃষকেরা এখন আর শুধু স্থানীয় বাজারে সবজি বিক্রি করে টাকা আয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেন না; সঠিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করে তারা এবার সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা তথা 'ডলার' আয় করার স্বপ্ন দেখছেন। দেশের উর্বর মাটিতে উৎপাদিত বিষমুক্ত ও নিরাপদ সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে এখন মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করার এক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গাইবান্ধা ও বগুড়ার অঞ্চলে ‘মালিক সিডস কোম্পানি’, ওডিএসডি এবং অবলম্বন অর্গানাইজেশনের যৌথ সহায়তায় স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকদের নিয়ে শুরু হয়েছে এক দারুণ কর্মযজ্ঞ।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ‘নিরাপদ সবজি’ উৎপাদন
উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গাইবান্ধা জেলার তিনটি উপজেলা—সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ এবং বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় এই নিরাপদ সবজি উৎপাদন প্রকল্পটির কাজ চলছে। প্রায় ৫,০০০ কৃষকদের নিয়ে এই পুরো প্রজেক্টটি পরিচালিত হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রকল্পের প্রতিনিধি বলেন: "কৃষকদেরকে এই নিরাপদ সবজি উৎপাদনের উপরে আমরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ করাচ্ছি। তারা কিভাবে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করবে সে বিষয়টার আমরা হাতে-কলমে শিখিয়ে দিচ্ছি।"
প্রথাগত পুরোনো প্রযুক্তি বাদ দিয়ে আধুনিক ও সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পোকা ও রোগবালাই দমনের বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিষমুক্ত সবজি আবাদ করছেন কৃষকেরা। ৩০ দিন বয়সী একটি ফুলকপির মাঠের উদাহরণ দিয়ে তারা দেখান, সেখানে কোনো রাসায়নিক কীটনাশক স্প্রে করার প্রয়োজনই পড়েনি।
আধুনিক প্রসেসিং সেন্টার ও রপ্তানির প্রস্তুতি
নিরাপদ সবজিগুলো সংগ্রহের পর তা সঠিকভাবে বিদেশে পাঠানোর উপযোগী করতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বক্সচর এলাকায় একটি আধুনিক 'প্রসেসিং সেন্টার' বা প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। কৃষকেরা মাঠ থেকে সবজি এনে এখানে জমা দেবেন। প্রতিনিধি জানান: "এই প্রসেসিং সেন্টারে এখানকার কৃষকরা নিরাপদ সবজি নিয়ে যাবেন। ওখানে আমাদের সবজি স্টোরজাত করা যাবে, ওখানে গ্রেডিং হবে, বাছাই হবে, ওয়াশিং হবে, লেবেলিং হবে। তারপরে এই সবজিটা চলে যাবে দেশের বাহিরে। তো দেশের বাহিরে যখনই চলে যাবে তখনই কিন্তু কৃষকরা আর টাকা ইনকাম করবে না, তখন তারা কিন্তু ডলার ইনকাম করবে।"
বিদেশে পাঠানোর আগে এই সবজিগুলোতে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক বা বিষাক্ত উপাদান আছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে প্রসেসিং সেন্টারে বিশেষ ল্যাব টেস্ট বা পরীক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
পাল্টে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য
আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের ছোঁয়ায় কৃষকদের ফলন ও আয় আগের তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকল্পের অধীনে করলা ও অন্যান্য সবজি চাষ করে নিজেদের অর্থনৈতিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে এক কৃষক অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করে বলেন: "যে পর্যন্ত আবাদ করতেছিলাম এখনকার পর্যন্ত আমার অনেক ফসল ইনশাল্লাহ ফল বেশি হচ্ছে। তাতে আমার উন্নতি বেশি আল্লাহর রহমত। আগে যদি ১০-১৫ হাজার বেচছি, এখন আল্লাহ ৬০-৭০ হাজার টাকা বিক্রি... জমিন ১০ শতক, ১০ শতক ১ হাজার টাকা (৭০ হাজার টাকা) বিক্রি করছি আমি এই করলা।"