১০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা! শৌখিন পাখি ও কবুতর চাষে যুবকের অবিশ্বাস্য সাফল্য

কবুতর

নিজস্ব প্রতিবেদক: শুরুটা হয়েছিল মাত্র ১০ হাজার টাকার কিছু দামি কবুতর ও পাখি কেনার মধ্য দিয়ে। আর এখন সেই শখই রূপ নিয়েছে বড়সড় ব্যবসায়। বর্তমানে তার সেই খামার ও দোকানের পুঁজি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকায়, যেখান থেকে প্রতি মাসে অনায়াসেই ৩০ হাজার টাকা আয় করছেন গাইবান্ধার এক সফল উদ্যোক্তা

শৌখিন ও বিদেশি পাখি এবং কবুতর বাণিজ্যিকভাবে পালন করে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গাইবান্ধা ট্রাফিক মোড়ের ‘বার্ডস গ্যালারি’ (পাখির দোকান)-এর এই মালিক

শখ থেকে বাণিজ্য প্রসারের গল্প

উদ্যোক্তা জানান, প্রথমে তিনি শখের বশেই বাড়িতে কবুতর ও পাখি লালন-পালন শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি চিন্তা করেন যে একে বাণিজ্যিকভাবে রূপ দেওয়া সম্ভব কিনা। সেই ভাবনা থেকেই তিনি বাজারে একটি দোকান দেন এবং কিছু পাখি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তার দোকানে দেশি কোনো পাখি নেই, সবই বিভিন্ন প্রজাতির বিদেশি আকর্ষণীয় পাখি ও কবুতর

তার দোকানে থাকা বিদেশি পাখির জাত ও বর্তমান বাজারদরের কিছু বিবরণ তিনি তুলে ধরেন: 

  • ককাটেল (Cockatiel): এই পাখির বিভিন্ন প্রজাতি ও আকর্ষণীয় রঙের ওপর দাম নির্ভর করে। সর্বনিম্ন ৩,০০০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামে বিক্রি হয়

  • লাভ বার্ড (Lovebird): লাল মাথার ফিশার লাভ বার্ডসহ বিভিন্ন রঙের লাভ বার্ড রয়েছে। প্রজাতিভেদে এগুলো ৩,০০০, ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা জোড়া বিক্রি হয়

  • হাউস পিজন (House Pigeon): একসময় এই জাতের কবুতরের অনেক দাম ছিল। বর্তমানে বড় আকৃতির এই আকর্ষণীয় কবুতর জোড়া ৩,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়

  • অন্যান্য: বাজরিগার (রানিং ৬০০ টাকা জোড়া), ব্লু শাটিন (জোড়া ২,০০০ টাকা), অস্ট্রেলিয়ান ঘুঘু (৬০০ টাকা জোড়া) এবং সিল্কি ঘুঘু (৮০০ টাকা জোড়া) অন্যতম

সহজ পরিচর্যা ও খাদ্যাভ্যাস

পাখি ও কবুতর পালনে বাড়তি কোনো ঝামেলা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দিনে মাত্র একবার খাবার দিলেই এরা ভালো থাকে। কবুতর ও পাখির প্রধান খাদ্য হিসেবে তিনি গম, ভুট্টা ভাঙা, সূর্যমুখীর বীজ, চিনা, কাউন এবং মসুর ডাল মিশিয়ে ব্যবহার করেন। তবে পাখিদের মিনারেলের ঘাটতি পূরণের জন্য খাঁচায় বিশেষ 'মিনারেল ব্লক' (Mineral Block) দেওয়া থাকে

পাখিদের সাধারণত ঠাণ্ডা লাগা বা চুনা পায়খানার মতো কিছু সাধারণ রোগবালাই হয়ে থাকে, যা সঠিক সময়ে বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ খাওয়ালে দ্রুত সেরে যায়। সঠিক যত্ন নিলে এবং রোগবালাইয়ে মৃত্যু না হলে এই ব্যবসায় লোকসানের কোনো সুযোগ নেই

টেনশন মুক্ত জীবনের জাদুকরী মাধ্যম

পাখি পালন শুধু ব্যবসাই নয়, মানুষের মানসিক ক্লান্তি ও দুশ্চিন্তা দূর করার এক দারুণ মাধ্যম। তরুণ প্রজন্ম ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়ে এই সফল খামারি বলেন: "আমার মনে হয় এই পাখি নিয়ে যদি থাকা যায়, পেশার দুই ঘর একবেলা খালি যাবে টেনশন আসবে না। মানে যতক্ষণ পাখির সঙ্গে থাকবেন, ততক্ষণ বাইরের কোন টেনশন আসবে না। আমি গার্জিয়ানদেরকে বলব—সেভেন, এইটে (class 7-8) যারা বাচ্চারা পড়ে, ওদেরকে বাইরে খেলতে না যেতে দিয়ে ওদের দুজরা (দুই জোড়া) পাখি কিনে দেন। ওরা ওটা নিয়ে সময় কাটাবে, ভালো থাকবে।"

তিনি আরও জানান, পাখির বয়স যখন ৬ মাস হয়, তখন থেকে এরা ডিম-বাচ্চা বা প্রোডাকশন দেওয়া শুরু করে এবং একটানা চার-পাঁচবার ডিম দেওয়ার পর কিছুদিন প্রাকৃতিক নিয়মে বিশ্রামে (Rest) যায়। গাইবান্ধা শহরের ট্রাফিক মোড়ে অবস্থিত তার এই দোকানে পাখি ও কবুতর চেনার জন্য পায়ে পরানোর বিশেষ মার্কিং রিং, খাঁচা ও পাখির বিভিন্ন খেলনাও পাওয়া যায়