টিভি খুলতেই বের হলো ৭০ হাজার টাকা! ‘টিভি হাসপাতালের’ মালিকও হতবাক

টিভি হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: মেরামতের জন্য দোকানে রেখে যাওয়া পুরোনো একটি টেলিভিশন খুলতেই চোখ ছানাবড়া কারিগরের। টেলিভিশনের ভেতরে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি খোঁজার আগেই হুড়মুড় করে বেরিয়ে এলো বান্ডিল বান্ডিল টাকা! গুনতি করে দেখা গেল, ভেতরে রয়েছে নগদ ৭০ হাজার টাকা। কোনো সিনেমার গল্প নয়, বাস্তব জীবনের এমন এক সততা ও বিস্ময়কর ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন স্থানীয় এক ইলেকট্রনিক্স মেকানিক ও তার ‘টিভি হাসপাতাল’সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা এবং একজন মেকানিকের দীর্ঘ দুই দশকের অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে

যেভাবে মিলল ৭০ হাজার টাকা

দোকানের মালিক ও মেকানিক জানান, এক কাস্টমার তার টেলিভিশনটি মেরামতের জন্য দোকানে রেখে যান। কাজের চাপ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে না ধরে তিন-চার ঘণ্টা পর যখন তিনি টেলিভিশনটি খোলেন, তখনই ঘটে এই অদ্ভুত ঘটনা। মেকানিকের ভাষায়: "আমি যখন টিভিটা খুললাম খোলার পর দেখি টাকা। তখন টাকাটা গড়িয়ে নেই টিভিটা..."

টাকা পাওয়ার পর মেকানিক দ্রুত ওই গ্রাহককে ডেকে পাঠান এবং ঘটনাটি জানান। তবে গ্রাহক নিজে প্রথমে এই টাকার ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। পরে জানা যায়, টেলিভিশনের পেছনের একটি ভাঙা অংশ দিয়ে তার স্ত্রী গোপনে এই টাকাগুলো জমিয়ে রেখেছিলেন। মেকানিক বলেন: "পরে ওনার ওয়াইফকে ফোন করল, এরকম ঘটনা টাকা টিভির ভিতরে পাওয়া গেছে। তখন ওনি বললেন—হ্যাঁ, টাকাটা আমি রাখছি।"

রেডিও থেকে এলইডি: এক মেকানিকের জীবনযুদ্ধ

১৯৯৯ সালে হাসন বাজার থেকে ঘড়ি মেরামতের মাধ্যমে কাজ শুরু করা এই কারিগর পরবর্তীতে আসাদুজ্জামান মার্কেটে থিতু হন। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে তিনি নিজের কাজের পরিধিও বাড়িয়েছেন। তিনি বলেন: "আমার এই কাজটা প্রথমত শুরু করা রেডিও এবং টেপ রেকর্ডারের মাধ্যমে। যুগের পরিবর্তনে যখন ওগুলোর দিন শেষের দিক চলে গেল, তখন আমি ধীরে ধীরে ধীরে ধীরে সাদা-কালো টিভিতে জড়িত হলাম। তখন সাদা-কালোর যুগ চলে গেল, তখন আমি সিডি টিভিতে আসলাম। এখন আমি ধীরে ধীরে আবার এলইডি... এলইডির সাথে সংযুক্ত হইছি।"

বর্তমানে তার এই দোকানে ওভেন, রাইস কুকার, ইলেকট্রনিক চুলা, সিআরটি ও এলইডি টিভিসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মেরামত করা হয়। দোকানে সবসময় এত পরিমাণ অচল টেলিভিশন ও যন্ত্রপাতি জমা থাকে যে, স্থানীয় মানুষের কাছে এটি এখন ‘টিভি হাসপাতাল’ বা 'মোবাইল হাসপাতাল' নামেই পরিচিতি পেয়েছে

"হাতের কাজ কোনদিন ফাঁকি দেবে না"

আজকের তরুণ প্রজন্মের বেকারত্ব নিয়ে নিজের এক দারুণ অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন এই মেকানিক। প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা না থাকলেও কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন: "অনেক ছেলেপেলে দেখি বেকার ঘুরিয়ে বেড়াচ্ছে। বয়সে ইন্টার পাস, এসএসসি পাস অনেক ছেলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি অবশ্য বেশি লেখাপড়া করতে পারি নাই, এসএসসি পাস... তখন আমি চিন্তা করলাম আমার একটা হাতের কাজ শিখতে হবে। হাতের কাজ আপনাকে কোনদিন ফাঁকি দেবে না।"

বাজারে বর্তমানের সস্তা চায়না পণ্যের দুর্বল স্থায়িত্ব এবং পুরোনো টিভি জোড়াতালি দিয়ে সচল করার নানা কৌশলও তিনি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন। সবশেষে, সততার সাথে কাজ করে এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, কাস্টমারকে ভালো মনে কাজ বুঝিয়ে দিলে জীবনে কখনো সমস্যায় পড়তে হয় না, আর বর্তমানে নিজের এই পেশা ও জীবন নিয়ে তিনি অত্যন্ত সুখে ও শান্তিতে আছেন