গাইবান্ধার মূল বধ্যভূমিতে একাত্তরের সেই পৈশাচিক গণহত্যার লোমহর্ষক ইতিহাস

ইতিহাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলতেই সামনে ভেসে ওঠে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তক্ষয়ী লড়াই আর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম গণহত্যার লোমহর্ষক চিত্র। উত্তর জনপদের গাইবান্ধা শহরের বুকে গড়ে ওঠা তৎকালীন পাকিস্তানি বাহিনীর প্রধান নির্যাতন কেন্দ্র ও বধ্যভূমির ইতিহাস আজও এক জীবন্ত ক্ষত হয়ে আছে। তাড়াহুড়োয় লাশ পুরোপুরি মাটিচাপা দেওয়ারও সুযোগ পায়নি হানাদাররা—এমন নৃশংসতা ও বঞ্চনার গল্প আজও নাড়া দেয় বিবেকবান মানুষকে।

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ক্যাপ্টেন খোর ও মেজর মাহমুদের নেতৃত্বে পাকিস্তানি বাহিনী গাইবান্ধায় প্রবেশ করে বর্তমান শাহ আব্দুল হামিদ স্টেডিয়াম (তৎকালীন হেলিপ্যাড) ও সংলগ্ন অফিশিয়াল গোডাউন এলাকায় তাদের প্রধান ক্যাম্প ও টর্চার সেল গড়ে তোলে। রাজাকার-আলবদরদের সহযোগিতায় গাইবান্ধার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিরীহ নারী-পুরুষকে ধরে এনে এই ঘরে অকথ্য নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হতো। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হানাদাররা পালিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে এত বেশি মানুষ হত্যা করেছিল যে তাড়াহুড়োয় লাশগুলো সম্পূর্ণ ঢাকতেও পারেনি; মাটির নিচ থেকে নারীদের শাড়ি, পেটিকোট ও হাত বাইরে বের হয়ে ছিল। প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মানুষকে এই মাঠে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করে গণকবর দেওয়া হয়েছিল।

গেল দশকগুলোতে গাইবান্ধায় ৩০টি বধ্যভূমি চিহ্নিত করা হলেও সদরের এই প্রধান ঐতিহাসিক বধ্যভূমিটি আজও পূর্ণাঙ্গ সংরক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছে। দ্রুত এসব বধ্যভূমি সংরক্ষণ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে একাত্তরের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও শহীদ পরিবারগুলো।