পাটের শিকায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করছেন নারী উদ্যোক্তা
উদ্যোক্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা ‘শিকা’ আজ স্মৃতির পাতায় ঠাঁই নিতে বসেছে। অথচ একসময় এই পাটের তৈরি শিকা ছাড়া বাঙালি গৃহস্থালির কথা কল্পনাই করা যেত না। আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া সেই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এর পরিচিতি তুলে ধরতে গাইবান্ধার নারী উদ্যোক্তা হোসনেয়ারা হাতে নিয়েছেন ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ।
ঐতিহ্যবাহী এই শিকা মূলত ঘরের চালা বা আড়ায় ঝুলিয়ে রেখে তার ভেতরে খাবার দাবার নিরাপদে সংরক্ষণ করা হতো। ইঁদুর বা বিড়ালের উপদ্রব থেকে খাবার বাঁচাতে এর ব্যবহার ছিল অপরিহার্য। কালের বিবর্তনে ফ্রিজ ও প্লাস্টিক পণ্যের আগ্রাসনে রান্নাঘর থেকে শিকা বিদায় নিলেও, এখন এটি নতুন রূপে জায়গা করে নিচ্ছে আধুনিক ফ্ল্যাটের বারান্দা ও নামিদামি রেস্টুরেন্টের ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনে। পাটের সুতায় তৈরি নান্দনিক এই শিল্পকর্মগুলো দেশ ছাড়িয়ে নজর কাড়ছে সচেতন ক্রেতাদের।
উদ্যোক্তারা জানান, প্রাকৃতিক ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় পাটের তৈরি পণ্যের চাহিদা বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। নিপুণ হাতে তৈরি একেকটি শিকা যেমন আমাদের শেকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়, তেমনি গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতারও পথ দেখায়। বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে এমন উদ্যোগগুলো সত্যিই প্রশংসনীয়।