ক্যানসারে পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যু থেকে জন্ম গাছপালার হাসপাতাল
কৃষি
নিজস্ব প্রতিবেদক: পরিবারে একে একে বাবা ও ভাইকে ক্যানসারে হারানোর পর একজন মানুষের জীবনদর্শন কীভাবে বদলে যেতে পারে, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই অদম্য উদ্যোক্তা। বাজার থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক মিশ্রিত খাবার কেনার পরিবর্তে নিজের পরিবার ও সমাজকে নিরাপদ রাখতে তিনি গড়ে তুলেছেন বিষমুক্ত কৃষি খামার এবং দেশের এক ব্যতিক্রমী ‘গাছপালার হাসপাতাল’।
মানুষ অসুস্থ হলে যেমন হাসপাতালে যায়, তেমনি গাছপালা বা ফসলের যেকোনো সমস্যায় কৃষকরা যেন সঠিক ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ পেতে পারেন—এই মহৎ ভাবনা থেকেই তিনি শুরু করেন ফ্রি কনসালটেন্সি বা পরামর্শ সেবা। নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট ও জৈব বালাইনাশকের সাহায্যে তিনি ক্যাপসিকাম, স্ট্রবেরি ও লেটুস পাতার মতো উচ্চমূল্যের সবজি ও ফল নিজ বাগানে সফলভাবে ফলিয়ে চলেছেন। শুরুর দিকে মানুষ তার এই কাজকে ‘পাগলামি’ বলে উপহাস করলেও এবং পুঁজির সংকটে নিজের জমি বিক্রি করতে হলেও আজ তার এই উদ্যোগ এলাকার কৃষকদের আস্থার ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। বিনামূল্যে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এলাকার মানুষের মধ্যে বীজ বিতরণ করে তাদের বিষমুক্ত সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন।
শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে গড়ে ওঠা এই অনন্য কৃষি হাসপাতাল ও উদ্যোক্তার নিরলস সংগ্রাম উত্তরবঙ্গের কৃষি ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক অনন্য অনুকরণীয় অধ্যায় হয়ে উঠেছে।