আঠাহীন ও ৭ দিন সতেজ থাকা বিদেশি জাতের কাঁঠাল এখন বাংলাদেশে
কৃষি
নিজস্ব প্রতিবেদক :
কাঁঠাল পুষ্টিকর ফল হলেও এর আঠার কারণে অনেকেই এটি খেতে অনীহা প্রকাশ করেন। কিন্তু এবার বাংলাদেশে এমন এক বিদেশি জাতের কাঁঠালের সফল চাষ শুরু হয়েছে যা সম্পূর্ণ আঠাহীন। শুধু তাই নয়, এই কাঁঠাল পাকার পর সাত দিন পর্যন্ত রাখলেও এর স্বাদ বা শক্ত ভাব পরিবর্তন হয় না। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই আধুনিক কাঁঠাল চাষ ও কলম পদ্ধতির অভাবনীয় সাফল্য তুলে ধরা হয়েছে।
আঠাহীন কাঁঠালের বিশেষত্ব সাধারণ দেশি কাঁঠাল সকালে পাকলে বিকেলেই নরম হয়ে যায় এবং স্বাদ নষ্ট হতে শুরু করে। কিন্তু এই বিশেষ জাতের কাঁঠাল পাঁচ থেকে ছয় দিন পর্যন্ত পাকা অবস্থায় রাখলেও একই রকম শক্ত এবং সুস্বাদু থাকে। এর সবচেয়ে বড় গুণ হলো এতে কোনো আঠা নেই, যা ভোক্তাদের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক।
অসময়ে ফলন ও অধিক লাভ উদ্যোক্তার বাগান পরিদর্শনে দেখা যায়, মাত্র আট থেকে নয় মাস বয়সী গাছেই কাঁঠাল ধরতে শুরু করেছে। সাধারণ কাঁঠালের মৌসুমে যেখানে একটি গাছে ১২-১৫টি ফল আসে, সেখানে অসময়ে (নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে) এই জাতের একটি গাছ থেকে প্রায় ৫০টি পর্যন্ত কাঁঠাল সংগ্রহ করা হয়েছে। অসময়ে ফলন হওয়ার কারণে বাজারে এর দাম সাধারণ সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি পাওয়া সম্ভব, যা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক।
কলম পদ্ধতিতে সফলতা বাংলাদেশে কাঁঠালের কলম করা অত্যন্ত কঠিন কাজ হিসেবে পরিচিত। তবে এই কৃষি কর্মকর্তারা তিন ধরনের কলম পদ্ধতি (বার্ডিং, গ্রাফটিং এবং ব্রাঞ্চ গ্রাফটিং) নিয়ে দুই বছর গবেষণার পর ‘টিপ গ্রাফটিং’ পদ্ধতিতে সবচেয়ে বেশি সফলতা পেয়েছেন। এ বছর প্রায় ৪০০০ কলম করা হয়েছে যার মধ্যে ৬০ শতাংশই সফল হয়েছে।
চারা প্রাপ্তি ও মূল্য বেসরকারি নার্সারিগুলোতে এই জাতের চারা ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হলেও সরকারিভাবে এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২০০ টাকা। বাগান করতে আগ্রহী কৃষক এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রকল্পকে এই চারা সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমানে উদ্যোক্তার বাগানে ২০০টি মাতৃগাছ রয়েছে যা থেকে কলম তৈরি করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য কৃষি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য হলো এই উন্নত জাতের কাঁঠাল সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া যাতে মানুষকে বিদেশি ফল আমদানির ওপর নির্ভর করতে না হয়। এছাড়া তারা রঙিন কমলা ও মাল্টার মাতৃবাগান তৈরির মাধ্যমে ফল চাষে নতুন বিপ্লব আনার কাজ করছেন।
বিশ্বস্ততার সাথে উন্নত জাতের চারা সরবরাহ করে দেশের ফলের চাহিদা মেটানো এবং কৃষকদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।



