আমাদের টাকা নেওয়া যায়, হোটেলে বসে খেতে দেওয়া যায় না

জীবনযুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শহরের রাস্তাঘাট ও জঞ্জাল পরিষ্কার করে যারা পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখেন, সমাজব্যবস্থায় সেই হরিজন বা সুইপার সম্প্রদায়ের মানুষেরা আজও মৌলিক মানবাধিকার ও সামাজিক মর্যাদার লড়াইয়ে চরম বৈষম্যের শিকার। শহরের হোটেল-রেস্তোরাঁয় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং মানবেতর জীবনযাপনের এক হৃদয়বিদারক চিত্র উঠে এসেছে গাইবান্ধার হরিজন কলোনির বাসিন্দাদের মুখে।

শহরের হোটেলগুলোতে সাধারণ মানুষের মতো বসে খাবার খাওয়ার অধিকার নেই এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর। হোটেল মালিক ও কর্মচারীরা তাদের কাছ থেকে ঠিকই টাকা নেন, কিন্তু ভেতরে বসতে না দিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে বা কাগজের ঠোঙ্গায় খাবার নিতে বাধ্য করেন। অথচ শহর পরিষ্কার রাখার প্রধান কাজটি তাদের হাত দিয়েই হয়। অতীতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হোটেলে বসার নির্দেশনা দেওয়া হলেও স্থানীয় পর্যায়ে তার কোনো কার্যকর বাস্তবায়ন হয়নি। সুইপার কলোনির মানুষের অভিযোগ, সরকারি চতুর্থ শ্রেণির চাকরি পেতেও ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়, যা তাদের মতো গরিব মানুষের পক্ষে অসম্ভব। এছাড়া বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা কিংবা প্রতিবন্ধী ভাতার মতো সামাজিক সুরক্ষা থেকেও তারা বঞ্চিত। জেলা প্রশাসকের বাসভবনের পাশেই কলোনিটি অবস্থিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে কেউ তাদের খোঁজ নেয়নি। এমনকি কলোনি থেকে কোনো মৃত ব্যক্তির লাশ বের করার সাধারণ পথটিতেও নানা বাধার মুখোমুখি হতে হয়। প্যারালাইসিসে আক্রান্ত স্বামী ও প্রতিবন্ধী কন্যাকে নিয়ে অতি কষ্টে দিন কাটানো এক নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সামান্য বেতনের এই চাকরি দিয়ে বর্তমান বাজারে সংসার টিকিয়ে রাখা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

সমাজের মূলস্রোত থেকে দূরে থাকা এই প্রান্তিক ও অবহেলিত মানুষগুলোর নাগরিক অধিকার, সামাজিক মর্যাদা এবং জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।