শীতে কাঁপছে মানুষ, হাসছে ধুনকররা! লেপ তোষকের হুড়োহুড়ি!
ধুনকর
আমি লেপ–তোষকের কাজ করি, লেপ সেলাই করি। প্রায় ৪৬–৪৭ বছর বয়স থেকে আমি এই কাজ করছি। এই ব্যবসা আমার বাবা করতেন, আমার বড় ভাই করেন, আমিও করছি। আমরা সবাই এই কাজের সঙ্গেই আছি। তখন সময় ছিল ১৯৭৪ সাল। অনেক অভাব ছিল। বাবার হাত ধরে শহরে কাজে আসি। আমাদের কোনো পুঁজি লাগে না। আমরা লেপ বানাই, যেটুকু মজুরি পাই, সেটা দিয়েই বাজার করি, খাওয়া-দাওয়া করি।
আগে ভালো তুলা ছিল, ভালো কাপড় ছিল। এখন সেই ভালো তুলা আর পাওয়া যায় না। আগে কাপাস তুলা, বাঙা তুলা, শিমুল তুলা ছিল। এখন দাম বেশি, কাজ কম। এখন সব গার্মেন্টসের তুলা আসে। কাজের চাপ সবসময়ই থাকে।
আমাদের এখানে অনেক কর্মচারী আছে। ধরেন প্রায় ১০০ জনের মতো সদস্য আছি। ১০০ সদস্যের মধ্যে প্রতিটা গ্রুপে দুই-তিনজন করে ভাগ করা। কাজ বেশি পড়লে অর্ডারও বেশি আসে। পুরো গাইবান্ধা জেলা থেকে কাজ আসে। সুন্দরগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, গারিয়াপুর—প্রত্যেক ইউনিয়ন থেকে আসে। শহরের লোকজন তো আছেই।
একটা ভালো বড় লেপ বানাতে গেলে প্রায় ২৪০০–২৫০০ টাকা পড়ে। তার থেকে একটু ছোট হলে ১৭০০–১৮০০ টাকা পড়ে, কভারসহ। তার থেকেও ছোট হলে প্রায় ১৫০০ টাকার মতো পড়ে। তোষকেরও বিভিন্ন সাইজ আছে। সাধারণ তোষক একটু মোটা হয়। যার যেটা পছন্দ, সে সেভাবেই নেয়।
কাপড়, তুলা আর ধুনাই—আমরা ধুনাই করি, ফেটিয়ে তুলা সেলাই করে দেই। ভালো করে সমান করতে হয়, ভালো করে তুলা ডাঙ্গাতে হয়, ভালো করে সেলাই করতে হয়। তাহলে মান ভালো থাকে। যেটা বানিয়ে নেওয়া হয়, সেটা অনেক ভালো হয়। একটা তোষক কম করে হলেও ১০–১২–১৫ বছর চলে।
গ্রামে যেগুলো ব্যাচ বিক্রি করে ফেরিওয়ালারা দেয়, সেগুলো দুই-তিন বছরের বেশি টেকে না। কাপড়ের মান খারাপ, তুলার মান খারাপ। এখন সিজনের সময় আমাদের প্রায় এক মাস কাজ চলে। এক মাসে ধরেন প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা কামাই করতে পারি।
জীবন আগের মতোই আছে। কোনোমতে চলাফেরা করছি। ছেলে আছে, মেয়ে আছে, স্ত্রী আছে। তাদের বিয়ে-শাদি দেওয়া হয়েছে। কাজ করে সব কিছুই করা হয়। লেখাপড়াও করানো হয়। আল্লাহ তৌফিক দিলে কাজ ছেড়ে দিয়ে একটা দোকান দেব, ব্যবসা করব।
এখন তো অনেক কিছু বদলেছে, কমফোর্ট বেড়েছে। ইলেকট্রিকের সুবিধা আছে, কাজ চলছে। আমার পরামর্শ হলো—ব্যবসা করেন, ভালো জিনিস বিক্রি করেন, ভালো জিনিস রাখেন। আমরা আপনাদের ভালো কাজ করে দেব। ব্যবসা করলে আমরা সহযোগিতা করব।
একটা দোকান নিতে গেলে দুই-চার-পাঁচ লাখ টাকা লাগে। মাল তুলতেও দুই-চার-পাঁচ লাখ টাকা লাগে। তারপর ব্যবসায় বসতে হয়। এজন্য পরিশ্রম করতে হবে, সততা রাখতে হবে, কাজ ভালো করতে হবে। এইভাবে করলে আপনি সফল হবেন।
আল্লাহ চালাচ্ছেন, এতদিন আল্লাহ ভালোভাবেই সংসার চালাচ্ছেন। কাজ থাকলে ধরেন অন্তত ছয়–সাত–আটটা তোষক বানানো যায়। এখন বিভিন্ন তোষক আছে—৩০০, ২৫০, ২০০ টাকার কাজ। এই টাকা আমরা কাপড় অনুযায়ী দুজন ভাগ করে নেই। পুরো মার্কেটে অনেক কাজ হয়। ধরেন ১০০টা লেপ হলে আমার ৩০০ টাকা হয়।
আমার নাম মোহাম্মদ ইলিয়াস। আমার সাথে সরাসরি কথা বলতে পারেন। আমরা তুলা, কাপড় কিনে দেব, দোকানে নিয়ে যাব। আপনি আপনার পছন্দমতো তুলা-কাপড় নেবেন, তারপর আমরা শুধু বানিয়ে দেব। আমাদের মজুরি ঠিক করে দেবেন।
যোগাযোগ নম্বর: ০১৭৫৯৩০৪৬৩৮



