স্বাদে অতুলনীয় গাইবান্ধার বিখ্যাত লক্ষ্মীপুরের জিলাপি

ব্যাবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

গাইবান্ধা সদর উপজেলার এক প্রান্তিক জনপদ লক্ষ্মীপুর হাট। খুব বড় কোনো বাণিজ্যিক কেন্দ্র না হলেও প্রতিদিন বিকেলে এই হাট হয়ে ওঠে ভোজনরসিকদের মিলনমেলা। কারণ একটাই—এখানকার বিখ্যাত মচমচে আর রসে টৈটম্বুর জিলাপি। কয়েক দশক ধরে বংশপরম্পরায় কারিগররা এখানে জিলাপি তৈরি করে আসছেন, যার স্বাদ এক কথায় জাদুকরী। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই জিলাপির বিশেষত্ব ও জনপ্রিয়তার কাহিনী উঠে এসেছে।

স্বাদের নেপথ্যে থাকা রহস্য লক্ষ্মীপুরের জিলাপি কেন অন্য সব জায়গার চেয়ে আলাদা? কারিগরদের মতে, এর প্রথম রহস্য লুকিয়ে আছে এর উপাদানে। এখানে জিলাপি তৈরিতে সাধারণত মাসকলাইয়ের ডাল এবং আতপ চালের গুঁড়োর একটি বিশেষ অনুপাত ব্যবহার করা হয়। ডাল ভেজানো থেকে শুরু করে খামির তৈরি—পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ধৈর্য আর নিপুণতার সাথে সম্পন্ন করা হয়। এরপর ফুটন্ত তেলের কড়াইয়ে কাপড়ের পুঁটলি দিয়ে কারিগররা যখন নিখুঁত ছন্দে জিলাপি ছাড়েন, তখন তা এক শৈল্পিক রূপ নেয়।

মচমচে ও দীর্ঘস্থায়ী স্বাদ এই জিলাপির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি দীর্ঘক্ষণ রাখলেও এর মুচমুচে ভাব নষ্ট হয় না। লালচে করে ভাজার পর যখন চিনির শিরায় ডুবানো হয়, তখন এটি স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয় হয়ে ওঠে। এখানকার জিলাপির আকার সাধারণের চেয়ে বেশ বড় হয়, যা এই অঞ্চলের মানুষের আতিথেয়তার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।

ভোজনরসিকদের প্রিয় ঠিকানা প্রতিদিন বিকেলে লক্ষ্মীপুর হাটের বাতাসে মিশে থাকে জিলাপির মিষ্টি সুবাস। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসে গরম গরম জিলাপির খোঁজে। কেউ বাইক থামিয়ে বাড়ির জন্য কয়েক কেজি জিলাপি নিয়ে যাচ্ছেন, কেউবা দোকানের কাঠের বেঞ্চে বসে আড্ডার ছলে জিলাপির স্বাদ নিচ্ছেন। এমনকি প্রবাসীরাও দেশে ফিরলে একবারের জন্য হলেও এই জিলাপির স্বাদ নিতে ভুল করেন না। গাইবান্ধার যেকোনো সামাজিক উৎসব বা মেহমানদারিতে লক্ষ্মীপুরের জিলাপি ছাড়া যেন আয়োজন অপূর্ণ থেকে যায়।

ঐতিহ্যের ধারক আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা বা বড় কোনো শোরুম না থাকলেও লক্ষ্মীপুরের জিলাপি তার নিজস্ব স্বকীয়তা ও আভিজাত্য ধরে রেখেছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে কারিগররা একই দরদ দিয়ে তৈরি করে চলেছেন এই জিলাপি। উত্তরবঙ্গের এই পথে যাতায়াতকারী যে কেউ একবার এই জিলাপির স্বাদ নিলে তা আজীবন স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকে।

গাইবান্ধার এই ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপুরের জিলাপি আজ শুধু একটি মিষ্টি নয়, বরং এটি জেলার এক অনন্য পরিচিতি ও গর্বের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।