গাউন পট্টি বদলে হলো জিপি মার্কেট! কোটি টাকার শীতবস্ত্র বেচাকেনা!
শীতবস্ত্র
একটা ছুঁয়াটা ১০ টাকা হলেও এই গাউন মার্কেটে পাওয়া যায়। মূলত এটা গাউন মার্কেট। অনেকে এটাকে জিপি মার্কেট বলে বা জিপি বলেই পরিচিত। এখন আসলে গাউন পরা নিয়ে একটা সংকোচ আছে, কেউ বলতে চায় না। তাই অনেকেই এটাকে জিপি মার্কেট বলে পরিচয় দেয়। এখান থেকে কেনাকাটা করতে সবাই আসে। আফার লেভেলের লোকজনই বেশি আসে, নিম্ন থেকে শুরু করে টাকাওয়ালা পর্যন্ত সবাই আসে। কারণ এখানে কম দামে জিনিস পাওয়া যায়।
এগুলো পুরনো কাপড়। আমাদের বাপ-দাদারাও এই ব্যবসা করত, এখন আমরা করছি। এই ব্যবসাটার অনেক সুবিধা আছে গ্রাহকদের জন্য। কাপড়গুলো খুব কম টাকায় পাওয়া যায়। এখন তো জিনিসপত্রের দাম দিন দিন বাড়ছে, তারপরও এই গাউন মার্কেটে তুলনামূলক কম দামে ভালো জিনিস পাওয়া যায়। আমরা নতুন কাপড় বিক্রি করি না। অল্প লাভে চলি আর অল্প লাভে বেশি সেল করি।
আমরা মূলত খুচরাতেই বেশি জোর দেই। কম পয়সা কামাই করি, কিন্তু সেল বেশি করি। এটা একটা পুরনো বিশ্বাস। আমরা দুই-তিন মাস এই সিজনাল ব্যবসা করি। লাভ-লস আল্লাহর রহমতে যা হয়। এই কাপড়গুলো আমরা গাইড নিয়ে আসি, মানে না দেখা অবস্থায়। অনেক সময় গাইড খুলে দেখি কাপড় ছেঁড়া, পুরনো জিনিসও থাকে। তখন সেগুলো নষ্ট হয়ে যায় এবং বিক্রি করা যায় না।
ধরা যাক ২০০টা কাপড় এলো। এরপর আমরা একটা গড় হিসাব করি—একেকটা কাপড় কত করে পড়লো। এর সাথে আয়রনের খরচ যোগ করি। সব হিসাব করে দুই-চার-পাঁচ টাকা লাভ ধরে আমরা জিনিস বিক্রি করি।
আমার দোকানে জ্যাকেট আছে, ট্রাউজার আছে, টাইস আছে, কটি আছে, মাফলার আছে, শর্ট, চাদরসহ আরও অনেক কিছু আছে। আমার পুঁজি কম, তাই কম জিনিস এনে বিক্রি করি। বেচা শেষ হলে আবার গিয়ে নতুন মাল আনি। এই ব্যবসা করতে অনেক ধৈর্য লাগে, আর সততা খুব দরকার। সততা না থাকলে ব্যবসা করা যায় না।
ব্যবসা শুরু করার সময় আমার পুঁজি ছিল পাঁচ-সাত হাজার টাকা। ধার দেনা করে শুরু করেছি। ব্যবসার শেষে বা মাঝখানে ধীরে ধীরে সেই টাকা শোধ করেছি। কখনো পাঁচ-সাত হাজার থাকে, কখনো একটু বাড়ে বিশ-ত্রিশ হাজার হয়। তাতে কিছু যায় আসে না। অনেক সময় এখনো মানুষের কাছ থেকে ধার করেই ব্যবসা চালাতে হয়।
আইটেম অনুযায়ী ব্যবসা ভালো হওয়ার কথা, কিন্তু সব সময় সেভাবে হয় না। সাধারণত ১৫–২০ হাজার টাকার মধ্যেই ঘোরাফেরা করে। ঠান্ডার সময় ব্যবসা ভালো হয়, কিন্তু রোদ উঠলে আর সেভাবে হয় না। যে দোকানে যেরকম মালপত্র থাকে, সেই দোকানে সেরকম বেচাকেনা হয়। কোনো কোনো দোকান দিনে ৩০০০ টাকাও বিক্রি করতে পারে না। ২০০০ টাকা বিক্রি করলেই তারা শুকরিয়া আদায় করে।
পুরো মার্কেট মিলিয়ে শীতের সিজনে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই লাখ টাকার মতো বিক্রি হয়। শীতের এই কয়দিনে প্রতিদিন একজন বিক্রেতা গড়ে ১০–১৫ হাজার টাকা বিক্রি করে। খুব ঠান্ডা পড়লে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এই তিন মাসে পুরো পৌর মার্কেটে শীতের কাপড় আনুমানিক এক কোটি টাকার মতো বিক্রি হয়।



