সোনালী আঁশের সোনালী স্মৃতি: হারিয়ে যাওয়া জৌলুসে বেঁচে আছেন প্রান্তিক পাট চাষিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ‘সোনালী আঁশ’ পাটের সোনালী দিন আজ অনেকটাই স্মৃতির পাতায়। তবে সেই হারিয়ে যাওয়া জৌলুসের মাঝেও বুক ভরা আশা নিয়ে বেঁচে আছেন দেশের প্রান্তিক পাট চাষিরা। কষ্টার্জিত এই পাট বিক্রির টাকা দিয়েই এখনো ঘোরে অনেকের সংসারের চাকা। সম্প্রতি পাট চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন এ খাতের সাথে জড়িত কৃষকেরা।

সংসারের আশার আলো পাট চাষ

পাট চাষিদের মতে, পাট শুধু একটি ফসলই নয়, এটি তাদের পুরো বছরের সংসারের বাড়তি খরচের অন্যতম বড় একটি উৎস। পাট বিক্রির অর্থ দিয়ে কৃষকেরা তাদের নিত্যদিনের খরচ মেটানোর পাশাপাশি পোশাক-আশাক এবং পরবর্তী চাষাবাদের জন্য সার ও কীটনাশক কেনার ব্যবস্থা করেন। ভিডিওতে এক কৃষক বলেন: "এটা যখন আমরা বাজারে বিক্রি করি এটা সংসারের জন্য আলাদা পয়সা টাকা আসে এটা খরচা বা কাপড়া বিভিন্ন তাকদা সার আর কি সেনা চলে।" 

পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি

মাঠ থেকে পাট কাটার পর তা থেকে আঁশ ছাড়ানো এবং শুকানোর পুরো প্রক্রিয়ায় রয়েছে কৃষকদের নিপুণ হাতের ছোঁয়া। ভালো মানের সোনালী রঙ পাওয়ার জন্য কৃষকেরা অত্যন্ত যত্নের সাথে প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করেন। পাট কাটার পর প্রথমে সেগুলোকে এক জায়গায় স্তূপ বা ‘পালা’ দিয়ে রাখা হয়। এরপর পাতা ঝরে গেলে তা পানিতে ডোবানো বা ‘জাগ’ দেওয়া হয়। কৃষকের ভাষায়: "আমরা যখন পাটটা কাটি কাটার পরে এটাকে এক জায়গায় একটু পালা দিয়ে রাখি পালা রাখার পরে পাতা ফেলে এটাকে আমরা নিয়ে পানি দিয়ে ফালাই ফালার পরে এটাকে দুই ভাগে ভাগ করি যেমন একটা আগা আরেকটা মাথার বিপর দি যাতে আগালটা দোষ না হয়।" 

পাটের গুণগত মান ঠিক রাখতে পানির ওপরে কলার পাতা বা কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় যাতে রোদে পাটের কোনো ক্ষতি বা ‘দোষ’ না হয়। এরপর কামলারা পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে তা পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নেন। কৃষক বিস্তারিত উল্লেখ করে বলেন: "তারপরে পানি ফেলার পরে আমরা কলার পাতা বা কচুরি বানা বিভিন্ন যে উপর দিলে আর জিনিসটা দেখা যায় এটা দেওয়া হয় যাতে পাটার কোন দোষ না হয় এই কারণে তখন আমরা কামলা এটা ছিলি ছেলার পরে এটা আবার পরিষ্কার পানিতে দুইদিন বা একদিন রাখি যাতে রংটা খুব সুন্দর সোনালী হয় সোনালী হলে বাজার বিক্রি করা টাকা আর কি বেশি পাওয়া যায়।" 

আয়-ব্যয় ও বাজারের অনিশ্চয়তা

পাট চাষে লাভ কেমন হয়—এমন প্রশ্নে কৃষকেরা জানান, বিঘা প্রতি খরচ বাদ দিয়ে সঠিক দাম পাওয়া গেলে ভালো লাভ করা সম্ভব। এক বিঘা জমিতে সাধারণত ১০ থেকে ১১ মণ পাটের ফলন হয়ে থাকে। বাজারের দর অনুযায়ী এক বিঘা জমির পাট ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হয়, তবে বাজার কম থাকলে আদায়েও ঘাটতি পড়ে। 

বাজারে পাটের দর প্রায়ই ওঠানামা করে। প্রতি মণ পাট ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা বা তার বেশি দরেও বিক্রি হয়ে থাকে। তবে পাটের পরিচ্ছন্নতা এবং রঙের উজ্জ্বলতার ওপর দাম অনেকটাই নির্ভর করে। কৃষকেরা বলেন, "পরিষ্কার পরিচয় হলে হয়তো একটা ভালো পায় দেখা যায় সুন্দর দেখা যায় রংটা ভালো হয় রংটা ভালো হলে এতে দুই পয়সা বেশি দাম বলে...

বহুমুখী ব্যবহার ও পাটখড়ি

পাটের আঁশ থেকে চট, বস্তা ও বিভিন্ন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দড়ি তৈরি হয়। অন্যদিকে, আঁশ ছাড়ানোর পর অবশিষ্ট অংশ অর্থাৎ পাটখড়ি (যা স্থানীয় ভাষায় ‘সিন্থরা’ বা ‘সিনে ঠংড়া’ নামে পরিচিত) গ্রামীণ রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে বিপুলভাবে ব্যবহৃত হয়। অনেক সময় কৃষকেরা এই মোটাসোটা পাটখড়িগুলো বাজারে আঁটি বা 'মোটা' হিসেবেও বিক্রি করে বাড়তি আয় করেন। কৃষক বলেন: "চট বস্তা এটা তৈরি হয় তারপরে হচ্ছে অনেক সহজে দড়ি অনেক কাজের জন্য দড়ি এটা ব্যবহার হয় তারপরে হচ্ছে সিংটেডটা রান্নার জন্য এটা ব্যবহার হয় এটা আমাদের নিজেরই আমরা এই যে এই সিংটা এটা হচ্ছে অনেক সময় মোটা হিসেবে বিক্রি করি মোটা হিসেবে।