শৈশবের সেই সুস্বাদু ‘কটকটি’ আজ ইতিহাস

জীবনযুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: নব্বইয়ের দশক বা তার আগের গ্রামীণ শৈশব যাদের কেটেছে, তাদের কাছে ‘কটকটি’ শব্দটির সাথে জড়িয়ে আছে এক অন্যরকম নস্টালজিয়া। কাঁধে ঝোলা নিয়ে মেঠোপথে কটকটিওয়ালার সেই পরিচিত ডাক একসময় গ্রামের বিকেলগুলো মুখরিত করে তুলত। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়া ও প্যাকেটজাত খাবারের ভিড়ে আজ সেই পরিচিত দৃশ্য আর খুব একটা চোখে পড়ে না। কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে শৈশবের জনপ্রিয় এই খাবার ও এর সাথে জড়িত ফেরিওয়ালাদের জীবন-জীবিকা।

একসময় শিশুরা বাড়ি থেকে নষ্ট লোহা-লক্কড় বা ভাঙাচোরা জিনিস এনে কটকটিওয়ালার কাছে দিয়ে তার বিনিময়ে সুস্বাদু কটকটি সংগ্রহ করত। কিন্তু বর্তমান বাজারে চানাচুর, বিস্কুট ও আধুনিক চকলেটের প্রসারে এই ঐতিহ্য আজ কোণঠাসা। পেশা বদল করে অনেকে অন্য পেশায় চলে গেলেও হাতে গোনা যে কজন এই পেশা ধরে রেখেছেন, তাদের জীবন অত্যন্ত কষ্টের। দৈনিক ২০০ থেকে ৫০০ টাকা আয়ে চাল-ডাল আর সংসারের খরচ মেলাতে হিমশিম খেতে হয় তাদের।

তবুও পেটের তাগিদে এবং পুরোনো এই স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে তারা আজও পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়ান গ্রামের পর গ্রাম। কটকটি আজ কেবল কোনো খাবার নয়, এটি আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির এক হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস ও খেটে খাওয়া মানুষের টিকে থাকার এক করুণ সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।