এক মুঠো ভাতের জন্য আটার লই খাওয়া সেই মানুষটি আজ সফল কারিগর
জীবনযুদ্ধ
নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবন সবসময় সমান যায় না—প্রতিকূলতাকে জয় করে কঠোর পরিশ্রম আর সততা থাকলে শূন্য থেকেও শিখরে পৌঁছানো যায়। এর এক অনন্য বাস্তব উদাহরণ তৈরি করেছেন এই অভিজ্ঞ কারিগর। পেটে ভাত না জুটে আটার তৈরি ‘লই’ খেয়ে দিন কাটানো সেই দুঃসময় পেছনে ফেলে তিনি আজ এলাকার একজন সফল ও সম্মানিত কারিগর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
১৯৭৩-৭৪ সালের দিকে চরম অভাব অনটন ও অসুস্থ বাবার চিকিৎসার খরচ মেটাতে তিনি তালা-চাবি মেরামতের কাজ শুরু করেন। শুরুর দিনগুলোতে হারিকেন বা পেট্রললাইটের আলোতে কাজ করে দিন পার করতে হয়েছে তাকে। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে বগুড়ার ভিটিটিআই থেকে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের কাজে আরও পটু হয়ে ওঠেন। কালের বিবর্তনে কেবল তালা-চাবির কাজ নয়, বর্তমান যুগের চাহিদা অনুযায়ী রাইস কুকার, প্রেসার কুকার ও গ্যাসের চুলার মতো আধুনিক ইলেকট্রনিক ও গৃহস্থালি পণ্য মেরামতেও পারদর্শী হয়ে উঠেছেন তিনি।
জীবনের হাজারো সংকট ও অভাবের তাড়নায় কখনো অসদুপায় অবলম্বন করেননি; বরং শত কষ্টে সততা বজায় রেখে ব্যবসা চালিয়ে গেছেন। তার এই সুদীর্ঘ ও সংগ্রামের পথচলা বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের জন্য হাল না ছাড়ার এক বিশাল অনুপ্রেরণা।