হতাশা পেরিয়ে পাটের জাদুতে ঘুরে দাঁড়ালেন অদম্য নারী

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবন যখন চরম বিপদে ও হতাশায় থমকে গিয়েছিল, তখন আত্মহননের পথ বেছে না নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর পণ করেছিলেন এক অদম্য নারী। স্বামী কর্তৃক নির্যাতন, বিচ্ছেদ এবং তিন কন্যাসন্তানকে নিয়ে চরম সামাজিক প্রতিকূলতার মাঝেও হার না মানা মানসিকতা তাকে আজ সফল এক নারী উদ্যোক্তায় পরিণত করেছে।

পরিবারের অমত আর সমাজের নানা কটূক্তির মুখে পড়ে শূন্য থেকে শুরু হয়েছিল তার এই সংগ্রাম। তিন মেয়ের ভবিষ্যৎ রক্ষার্থে তিনি বেছে নেন পরিবেশবান্ধব পাটের পণ্যের কাজ। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের তৈরি শিকা, ব্যাগ, পাপোশ, টেবিল রানার ও জায়নামাজের মতো আকর্ষণীয় হস্তশিল্প তৈরি করে তিনি তাক লাগিয়ে দেন। বর্তমানে তার একটি দোকান ও ছোট কারখানা ছাড়াও স্যানিটারি ন্যাপকিন ও মাশরুমের প্রজেক্ট সফলভাবে চলছে। অর্থনৈতিক টানাপোড়েন ও জামানতবিহীন ঋণের জটিলতা সত্ত্বেও কারো কাছে হাত পাতেননি তিনি; বরং নিজের সততা ও কঠোর পরিশ্রমে আজ সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছেন।

অনলাইন পেজ ‘স্বপ্নকুটির’-এর মাধ্যমে নিজের পণ্য ছড়িয়ে দেওয়া এই উদ্যোক্তার স্বপ্ন—একদিন নিজ গ্রামে একটি বিশাল কারখানা গড়ে তুলবেন, যেখানে দুই শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। হাজারো প্রতিকূলতা পেরিয়ে গড়ে ওঠা এই জীবনসংগ্রামের গল্প গাইবান্ধার নারী সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।