রিকশা চালক থেকে দোতলা বাড়ির মালিক

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার গল্পটা অনেক কঠিন হলেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সততা থাকলে যে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়—তা আবারও প্রমাণ করেছেন গাইবান্ধার কালিরবাজার এলাকার হালিম বিক্রেতা জাহিদুল ইসলাম। ঢাকায় রিকশা চালানো ছেড়ে এসে সামান্য মূলধনে শুরু করা হালিমের ব্যবসাকে তিনি আজ পৌঁছে দিয়েছেন লাখপতি হওয়ার পর্যায়ে।

এক সময় জাহিদুলের নিজের থাকার মতো সুনির্দিষ্ট কোনো জমি বা সঞ্চয় ছিল না। ঢাকায় রিকশা চালানোর পাশাপাশি শরীয়তপুরের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে হালিম বানানোর সুনির্দিষ্ট রেসিপি ও কৌশল শেখেন তিনি। পরবর্তীতে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৮,০০০ টাকা ঋণ নিয়ে কাজ শুরু করেন। এর মধ্যে ২,০০০ টাকা দিয়ে দুই চাকার একটি ঠেলাগাড়ি বানান, ৪,০০০ টাকার হাড়ি-পাতিল কেনেন এবং অবশিষ্ট মূলধন ও মাত্র ৮০০ টাকার তবিল নিয়ে কালিরবাজারে হালিম বিক্রি শুরু করেন।

বর্তমানে প্রতিদিন কালিরবাজারের কসাইখানা থেকে তিনি প্রায় ১১,০০০ থেকে ১২,০০০ টাকার খাঁটি মাংস কেনেন। প্রতিদিন বিকাল ৩টায় দোকান গুছিয়ে বিকেল ৫টা থেকে ৭টা বা রাত ৯টার মধ্যে ১৬,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা এবং কখনো কখনো ২৫,০০০ টাকার হালিম ও নেহারি বিক্রি করেন। তার দোকানে সবচেয়ে কম ৫০ টাকায় মেলে ভরপুর হালিম, ৭০ টাকায় গরুর বট বা ভুঁড়ি, এবং ১০০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায় সুস্বাদু নেহারি ও পায়া। পাশাপাশি তার স্ত্রীর বাড়িতে বানানো প্রতিদিন অন্তত ৩০০টি রুটি ১০ টাকা দরে মুহূর্তেই বিক্রি হয়ে যায়।

প্রতিষ্ঠানে বাইরের কোনো লোক কাজ করে না, জাহিদুল তার পুরো পরিবার নিয়েই দোকান পরিচালনা করেন। সততা ও কাজের মূল্যায়ন হিসেবে প্রতিদিন নিজের পারিশ্রমিক ২০০ টাকা, দুই ছেলের ৬০০ টাকা, স্ত্রীর ২০০ টাকা এবং পুত্রবধূর ২০০ টাকা নির্দিষ্ট করে দেন।

একসময়ের পথের মানুষ জাহিদুল এই হালিম বিক্রির আয় দিয়ে তিন শতক জায়গায় তৈরি করেছেন নিজের একটি দৃষ্টিনন্দন দ্বিতল বাড়ি। সব দেনাপাওনা মিটিয়ে খুব শিগগিরই স্ত্রীকে নিয়ে সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ পালনের প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এই সফল উদ্যোক্তা।