ইরানের হামলায় তছনছ মার্কিন বিমান বহর

ইরানের হামলায় তছনছ মার্কিন বিমান বহর

নিজস্ব প্রতিবেদক | অনলাইন ডেস্ক:

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের জেরে বড় ধরনের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একের পর এক সরাসরি হামলা, সংঘর্ষ এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এরই মধ্যে মার্কিন বিমান বাহিনীর ৭টি সামরিক উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়েছে। বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল মুনা টিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ধ্বংস হওয়া বিমানের তালিকা যুক্তরাষ্ট্রের হারানো এই যুদ্ধবিমানের তালিকায় রয়েছে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক সব আকাশযান। এর মধ্যে রয়েছে:

  • ফাইটার জেট: বেশ কয়েকটি এফ-সিরিজের যুদ্ধবিমান।

  • রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট: মাঝ আকাশে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত কেসি-১৩৫ (KC-135) বিমান।

  • নজরদারি বিমান: বিশেষায়িত ই-থ্রি সেন্ট্রি (E-3 Sentry) নজরদারি বিমান।

কীভাবে ঘটল এই ক্ষয়ক্ষতি? প্রতিবেদনে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে: ১. ফ্রেন্ডলি ফায়ার: যুদ্ধের শুরুর দিকে কুয়েতের আকাশে নিজেদের ভুলেই (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) তিনটি এফ-ফাইটার জেট ভূপাতিত হয়। তবে এ ঘটনায় পাইলটরা নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন। ২. আকাশে সংঘর্ষ: ১২ মার্চ ইরাকের আকাশে একটি রিফুয়েলিং বিমান অন্য একটি বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষে বিধ্বস্ত হয়, যাতে ৬ জন মার্কিন ক্রু নিহত হন। ৩. সরাসরি হামলা: ২৭ মার্চ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের সরাসরি হামলায় একটি ই-থ্রি সেন্ট্রি নজরদারি বিমান ধ্বংস হয়। এই হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হন। ৪. জরুরি অবতরণ: ইরানের গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে একটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ (F-35) স্টেলথ জেট জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব এই বিশাল সামরিক ক্ষয়ক্ষতির ফলে মার্কিন সমরাস্ত্রের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন এসব বিমান ধ্বংস হওয়ায় ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্রমশ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। ক্রমাগত এই ক্ষতি মার্কিন বিমান বাহিনীর মনোবল ও কৌশলগত অবস্থানে বড় ধরণের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।