সততা ও পরিশ্রমে ভাগ্য বদলের অনন্য দৃষ্টান্ত
উদ্যোক্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইচ্ছাশক্তি, সততা আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে সাধারণ একজন কেয়ারটেকার বা ব্যবস্থাপকও যে নিজের মেধা দিয়ে কোটিপতি উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারেন—তার এক উজ্জ্বল ও জীবন্ত দলিল গাইবান্ধার এই মৎস্য খামার। অন্যের প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করে আজ নিজ দক্ষতায় বিশাল এই সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন এক অদম্য পরিশ্রমী মানুষ।
প্রায় ৪৫ বছরের পুরোনো এই মৎস্য খামারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ছিলেন তিনি। মালিকের বয়স বেড়ে যাওয়ায় এবং সন্তানের অন্য ব্যস্ততার সুবাদে একসময় পুরো খামার পরিচালনার দায়িত্ব এসে পড়ে তার কাঁধে। শুরুতে মাসিক চুক্তিতে খামারটি লিজ নেওয়ার পর তিনি ধাপে ধাপে পুঁজি খাটাতে শুরু করেন। ১১ লাখ টাকার বেশি দিয়ে খামারের মাছ কিনে নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত লিজের টাকা পরিশোধ করে তিনি ব্যবসাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। ২০ বিঘা আয়তনের এই সুবিশাল খামারে বর্তমানে প্রায় ৩০ থেকে ৩২ লাখ টাকার মাছ ও হ্যাচারি সামগ্রী রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। খামারে নিয়মিত কাজ করছেন ১২ জন শ্রমিক, যাদের মর্যাদাপূর্ণ বেতনে জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে।
এখানে উৎপাদিত মনোসেক্স তেলাপিয়া ও দেশীয় প্রজাতির মাছের মান অত্যন্ত ভালো হওয়ায় রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও কুড়িগ্রামসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা নিয়মিত পোনা সংগ্রহ করছেন। শূন্য থেকে শুরু করে আজ সফলতার শিখরে পৌঁছানো এই উদ্যোক্তার জীবনসংগ্রাম উত্তরবঙ্গের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।