রাজমিস্ত্রি থেকে সফল উদ্যোক্তা খুঁটির ব্যবসা বদলে দিল ভাগ্য

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

একসময় অন্যের অধীনে রাজমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করে দিনে মাত্র ৩০০-৫০০ টাকা আয় করতেন। সেই সামান্য আয়ে সংসার চালানো ছিল দায়। কিন্তু অদম্য ইচ্ছা আর কঠোর পরিশ্রমে আজ তিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক, যেখানে প্রতিদিনের আয় আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। গাইবান্ধার এই সফল উদ্যোক্তার জীবনযুদ্ধের গল্প উঠে এসেছে ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলের একটি ভিডিওতে।

শুরুর সংগ্রাম ও স্বপ্ন দীর্ঘ ২২ বছর অন্যের অধীনে রাজমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেছেন এই উদ্যোক্তা। তখন কাজ জুটলে খাবার জুটত, না হলে অনাহারে দিন কাটাতে হতো। সামান্য আয়ে অভাব-অনটন লেগেই থাকত। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল নিজস্ব একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার। সেই স্বপ্ন পূরণে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিনি সিমেন্টের খুঁটি ও রিং-স্ল্যাব তৈরির ছোট একটি কারখানা শুরু করেন।

পণ্যের সমাহার ও মূল্যতালিকা তার কারখানায় ভেন্টিলেটর, রিং স্ল্যাব এবং বিভিন্ন সাইজের আরসিসি (RCC) খুঁটি তৈরি করা হয়। খুঁটির আকার অনুযায়ী বর্তমান বাজার দর নিচে দেওয়া হলো:

  • ১১ ফুট খুঁটি: ৪২০ টাকা।

  • ১০ ফুট খুঁটি: ৩৫০ টাকা।

  • ৯ ফুট খুঁটি: ২৮০ টাকা।

  • ৮ ফুট খুঁটি: ২৪০ টাকা।

  • ৭ ফুট খুঁটি: ২২০ টাকা।

  • ৬ ফুট খুঁটি: ১৮০ টাকা।

সাফল্যের চাবিকাঠি ও মান নিয়ন্ত্রণ উদ্যোক্তার মতে, পণ্যের মান ভালো রাখাই তার ব্যবসার মূল শক্তি। তিনি খুঁটি তৈরিতে সঠিক পরিমাণে সিমেন্ট, উন্নত মানের বালু, তার ও পাথর ব্যবহার করেন। বর্তমানে তার কারখানায় প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার পণ্য কেনাবেচা হয়। কাজ করতে গিয়ে মাঝেমধ্যে বড় ধরণের দুর্ঘটনার শিকার হলেও তিনি দমে যাননি।

পারিবারিক সচ্ছলতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এই ব্যবসার আয় দিয়ে তিনি নিজের দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে বিয়ে দিয়েছেন এবং ৫ লাখ টাকার জমি বন্ধক নিয়েছেন। বর্তমানে তার অধীনে আরও কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছেন। ভবিষ্যতে কারখানাটি আরও বড় করার এবং ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর স্বপ্ন দেখেন তিনি।

তার এই জীবনযুদ্ধ প্রমাণ করে যে, সঠিক লক্ষ্য, ধৈর্য এবং কঠোর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব।