ঘরে গড়ে তোলা এক বিস্ময়কর ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সংগ্রহশালা

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আধুনিকতার প্রবল স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ফেলে আসা দিনের কত শত স্মৃতি ও ঐতিহ্য। কিন্তু একজন মানুষের অদম্য কৌতূহল আর ভালোবাসার টানে সেই হারিয়ে যাওয়া অতীতগুলো জীবন্ত হয়ে উঠেছে এক অদ্ভুত সংগ্রহশালায়। পেশায় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক হলেও পুরোনো, দুর্লভ ও পরিত্যক্ত জিনিসপত্র কুড়িয়ে ঘরে এক বিশাল জাদুঘর গড়ে তুলেছেন তিনি, যা দেখলে যে কারোরই চোখ কপালে উঠবে।

২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই সংগ্রহযাত্রায় আজ জমা হয়েছে হাজারো দুর্লভ নিদর্শন। ১৯৪৫ সালে জার্মানিতে তৈরি ইম্পেরিয়াল টাইপরাইটার, জাহাজের বিশেষ টেলিফোন, ১৯৭১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রচলিত সব কয়েন, আড়াই শতাধিক পুরোনো ক্যামেরা, শতাধিক রেডিও-ওয়াকম্যান, হাজার খানেক ক্যাসেট এবং এন্টিক কুপিবাতি তার সংগ্রহকে সমৃদ্ধ করেছে। এর বাইরেও গাইবান্ধা জেলখানার পুরোনো তালা, হাতির দাঁতের সিদুরদানি, মারোয়ারি সম্প্রদায়ের প্রাচীন অলংকার এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সব বিশেষ জাতীয় পত্রিকা তার সংগ্রহে রয়েছে। শুধু তাই নয়, কবি-সাহিত্যিক ও মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত চশমা ও ঘড়িও তিনি পরম যত্নে সংরক্ষণ করছেন। শুরুর দিকে সমাজ বা পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে ‘টাকা অপচয়’ ও পাগলামি বলে সমালোচনা করা হলেও তিনি দমে যাননি।

তরুণ প্রজন্মকে মোবাইল আসক্তি ও মাদক থেকে দূরে সরিয়ে অতীত ইতিহাসের সাথে পরিচিত করতে নিজ এলাকায় একটি স্থায়ী জাদুঘর বা প্রদর্শনী গড়ে তোলার তীব্র আকাঙ্ক্ষা রয়েছে তার। সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক একটু সহযোগিতা পেলে এই দুর্লভ সংগ্রহশালাটি হয়ে উঠতে পারে ইতিহাসের এক অনন্য পাঠশালা।