শৈশবের সেই কটকটি আজ ইতিহাস

কটকটি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

"কটকটি... কটকটি..." – গ্রাম বাংলার মেঠোপথে এক সময় এই ডাকটি ছিল অতি পরিচিত। দুপুরের রোদ গড়াতেই কাঁধে ভার নিয়ে হাজির হতেন কটকটিওয়ালা। শিশুদের কাছে তিনি ছিলেন ‘আনন্দের ফেরিওয়ালা’। কিন্তু কালের বিবর্তনে শৈশবের সেই মধুর স্মৃতি জড়ানো কটকটি আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। আধুনিক চকোলেট আর প্যাকেটজাত খাবারের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী পেশা।

স্মৃতিবিজড়িত সেই কটকটি এক সময় চিনি গলিয়ে তাতে বিশেষ রং মিশিয়ে তৈরি হতো শক্ত ও সুস্বাদু কটকটি। সেই কটকটির লোভে শিশুরা পরিত্যক্ত লোহার টুকরো বা ভাঙ্গাচোরা জিনিসের বিনিময়ে সংগ্রহ করত এই মিষ্টি। এটি শুধু একটি খাবার ছিল না, ছিল গ্রাম বাংলার সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে বর্তমানে কটকটির জায়গা দখল করে নিয়েছে চানাচুর, বাদাম, বিস্কুটসহ বিভিন্ন আধুনিক খাদ্য উপকরণ।

লড়াই করে টিকে থাকা জীবন ভিডিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বর্তমানে এই পেশায় টিকে থাকা স্বল্পসংখ্যক মানুষের জীবনযুদ্ধের চিত্র। কাঁধে জীবিকার বোঝা নিয়ে স্কুল, হাট বা গাছের তলায় দাঁড়িয়ে তারা অপেক্ষা করেন ছোট ক্রেতাদের জন্য। এখন আর আগের মতো রমরমা অবস্থা নেই। কোনোদিন ৫০০ টাকা বিক্রি হয়, আবার কোনোদিন ২০০ টাকাও জোটে না। দিনশেষে লাভ থাকে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। এই সামান্য উপার্জনেই চলে চাল-ডাল কেনা, সন্তানের লেখাপড়ার খরচ আর ওষুধের জোগান।

প্রতিকূলতা ও অনিশ্চয়তা আবহাওয়া ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এই পেশার মানুষের আয়। বৃষ্টি নামলে বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়, আবার স্কুল ছুটি থাকলে আয় কমে যায় তলানিতে। তবুও থেমে থাকে না তাদের পথচলা। অভাবের তাড়নায় অনেকেই এই পেশা ছেড়ে দিলেও, কেউ কেউ আজও মেঠোপথে সেই চেনা ডাক দিয়ে চলেছেন।

ঐতিহ্যের শেষ সুর আধুনিক মিষ্টি ও প্যাকেটজাত খাবারের ভিড়ে কটকটি এখন ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিচ্ছে। কোনো কোনো বিকেলে এখনও সেই চেনা ডাক শোনা গেলেও, তা যেন একটি পরিবারের বেঁচে থাকার লড়াই এবং হারিয়ে যেতে বসা এক পেশার শেষ আর্তনাদ। এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার কোনো উদ্যোগ না থাকায় হয়তো অচিরেই চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যাবে কটকটিওয়ালার সেই চিরচেনা ডাক।