২টি চারা থেকে কোটি টাকার স্বপ্ন

কৃষি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

“বাংলাদেশে আঙুর মিষ্টি হয় না”—দীর্ঘদিনের এই প্রচলিত ধারণা ভেঙে দিয়েছেন গাইবান্ধার এক তরুণ উদ্যোক্তা। মাত্র দুটি চারা দিয়ে শুরু করা তার এই আঙুর বাগান এখন বিশাল এক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই সফল আঙুর চাষির অবিশ্বাস্য যাত্রার গল্প উঠে এসেছে।

শুরু ও চ্যালেঞ্জ ২০২৪ সালে শখের বশে মাত্র ১৫০০ টাকা দিয়ে দুটি আঙুর চারা লাগিয়েছিলেন এই উদ্যোক্তা। শুরুতে অনেকেই বিশ্বাস করতে চাননি যে দেশের মাটিতে মিষ্টি আঙুর সম্ভব। কিন্তু প্রথম বছরই ডিকসন (Dixon) জাতের একটি গাছ থেকে প্রায় ২০ কেজি আঙুর ফলন পান তিনি। সেই আঙুর খেয়ে দেখা যায় তা বাজারের আমদানিকৃত আঙুরের চেয়েও বেশি মিষ্টি। এরপর থেকেই শুরু হয় তার বাণিজ্যিক আঙুর চাষের পরিকল্পনা।

জাত ও চারা সংগ্রহ বর্তমানে তার বাগানে ডিকসন, বাইকনুর, একলো, ভ্যালেস এবং লোডাসের মতো ৩০টিরও বেশি উন্নত জাতের আঙুর রয়েছে। ছোট পরিসরের এই বাগানটি সাজাতে তার খরচ হয়েছে প্রায় এক লক্ষ টাকা। চারা বিক্রির পাশাপাশি তিনি এখন আঙুরও উৎপাদন করছেন। দিনাজপুরের মতো দূরবর্তী এলাকা থেকেও মানুষ এখন তার বাগানে এসে আঙুর খেয়ে যাচাই করে চারা নিয়ে যাচ্ছেন।

অবিশ্বাস্য আয় উদ্যোক্তা জানান, আঙুরের চারা বিক্রি করেই তিনি এখন বড় অংকের আয় করছেন। সম্প্রতি মাত্র ৪ দিনে তিনি প্রায় ৭০ হাজার টাকার চারা বিক্রি করেছেন। এছাড়া তার বাগানের আঙুর পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ৩২০ টাকা দরেও বিক্রি করেছেন। তবে তার প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষের মধ্যে এই ভুল ধারণা দূর করা যে বাংলাদেশে আঙুর মিষ্টি হয় না। এ কারণেই তিনি প্রথম বছরের বেশিরভাগ ফল এলাকাবাসীকে বিনামূল্যে খাইয়েছেন।

চাষ পদ্ধতি ও পরামর্শ নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য তার পরামর্শ হলো—একবারে বড় বিনিয়োগ না করে দুই-তিনটি ভালো জাতের চারা দিয়ে শুরু করা। আঙুর চাষে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মাকড়সা ও ছত্রাক দমন। তিনি নিয়মিত মাকড়নাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেন। এছাড়া সঠিক সময়ে ‘প্রুনিং’ বা ডালপালা ছাঁটাই করা আঙুর চাষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আঙুর চাষ কেবল মৌসুমি আয় হলেও এর ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জ্বল বলে মনে করেন তিনি। বর্তমানে তার সংগ্রহে প্রায় ১৩০০ থেকে ১৪০০ চারা রয়েছে। তিনি আশা করছেন, অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবার তিনি চারা বিক্রি করে বিশাল অংকের মুনাফা অর্জন করবেন। বাংলাদেশের প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় বা ছাদে আঙুর গাছ পৌঁছে দেওয়া এবং দেশের আঙুরের চাহিদা দেশীয় উৎপাদন থেকেই পূরণ করার স্বপ্ন দেখছেন এই তরুণ