এক লড়াকু তরুণের জুয়েলারি ব্যবসার জয়গাথা

ব্যাবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পেটের তাগিদে এক সময় মানুষের দোকানে ৫০০০ টাকা বেতনে কাজ করতেন। না খেয়ে দিন কেটেছে, সইতে হয়েছে মালিকের দুর্ব্যবহার। কিন্তু অদম্য ইচ্ছা আর পরিশ্রম আজ তাকে এনে দিয়েছে অভাবনীয় সফলতা। গাইবান্ধার এই তরুণ এখন একজন সফল জুয়েলারি ব্যবসায়ী, যার মাসিক আয় বর্তমানে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে উঠে এসেছে তার এই অনুপ্রেরণামূলক জীবন সংগ্রামের গল্প।

সংগ্রামের দিনগুলো ২০১২ সালে এই তরুণ যখন জুয়েলারি ব্যবসায় কর্মজীবন শুরু করেন, তখন তার মাসিক বেতন ছিল মাত্র ৫০০০ টাকা। সেই বেতনে সংসার চালানো ছিল দায়। এসএসসি পরীক্ষার সময়ও তাকে ছুটি দেওয়া হয়নি, উল্টো সইতে হয়েছে মালিকের খারাপ ব্যবহার। ক্ষুধার্ত অবস্থায় অন্যের খাওয়া দেখে দিন কাটাতে হয়েছে, কিন্তু নিজের খাওয়ার টাকা ছিল না। অনেক রাত তিনি না খেয়েই কাটিয়েছেন।

উদ্যোক্তা হওয়ার যাত্রা ২০১৪ সালে তিনি সিদ্ধান্ত নেন নিজেই কিছু করার। জমানো কিছু টাকা নিয়ে তিনি পাইকারি বাজার থেকে মাল কিনে নিজে বিভিন্ন এলাকায় (পলাশবাড়ী, মাদারগঞ্জ, ধুপচাঁচিয়া) ঘুরে ঘুরে বিক্রি করতে শুরু করেন। তিনি দেখেন, অন্যের দোকানে মাসজুড়ে কাজ করে যা পান, নিজে বিক্রি করলে প্রতিদিন ৪-৫০০ টাকা আয় হচ্ছে। এই আত্মবিশ্বাস থেকেই তিনি নিজের ব্যবসার পরিধি বাড়াতে শুরু করেন।

বর্তমান ব্যবসা ও সফলতা দীর্ঘ ১২-১৩ বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি এখন গাইবান্ধা শহরের প্রাণকেন্দ্র ‘সালিমা সুপার মার্কেটে’ নিজস্ব দোকান দিয়েছেন। মাত্র ৪০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করা ব্যবসায় এখন প্রতিদিন গড়ে ৩০-৩৫ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়। বর্তমানে তার মাসে নিট আয় হয় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। তার দোকানে এখন নিজস্ব কারিগর দ্বারা তৈরি হ্যান্ডমেড এন্টিক জুয়েলারিও পাওয়া যায়।

পণ্যের সমাহার ও পাইকারি বাজার তার দোকানে মেয়েদের জন্য বিয়ের ব্রাইডাল সেট, শাড়িবেল, গহনা, সীতাহার, হাসলি, জার্মান সিলভারের সেট, মুক্তার মালা, কানের দুল, আংটি, ব্রেসলেট এবং বিভিন্ন ধরনের কাঁচ ও ভেলভেটের চুড়ি পাওয়া যায়। তিনি শুধুমাত্র খুচরা নয়, বরং বিভিন্ন জেলায় পাইকারি হারেও তার পণ্য সরবরাহ করেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাগুলোতেও তার পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

সাফল্যের চাবিকাঠি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তার মতে, সফলতার মূল চাবিকাঠি হলো স্রষ্টার ওপর ভরসা রাখা এবং কখনো ধৈর্য না হারানো। কারো ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের পথ নিজেই তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে স্বর্ণ ও রুপার ব্যবসার সাথে যুক্ত হওয়ার বড় পরিকল্পনা রয়েছে তার।

যোগাযোগের ঠিকানা গাইবান্ধা শহরের পার্ক রোড সংলগ্ন সালিমা সুপার মার্কেট (স্টেশন রোড, সমবায় মার্কেটের দক্ষিণ পাশে)। যোগাযোগ: ০১৯৪৯৯৩৪০৬০।

এই তরুণের জীবন প্রমাণ করে যে, শূন্য থেকে শুরু করেও কঠোর পরিশ্রম আর সততার মাধ্যমে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।