আবর্জনা সংগ্রহই যার নেশা

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মানুষের শখ কত বিচিত্র হতে পারে, তার এক অনন্য উদাহরণ গাইবান্ধার এই তরুণ। যেখানে অন্যরা পুরনো জিনিসকে ‘আবর্জনা’ মনে করে ফেলে দেন, সেখানে তিনি পরম মমতায় সেগুলোকে আগলে রেখেছেন। দীর্ঘ প্রায় এক দশকের প্রচেষ্টায় তিনি নিজের ঘরে গড়ে তুলেছেন এক বিস্ময়কর ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তার এই দুর্লভ সংগ্রহের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।

সংগ্রহের শুরু ও অনুপ্রেরণা ২০১৫ সালে এক বান্ধবীর ব্যক্তিগত সংগ্রহ দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি এই শখ শুরু করেন। পেশায় একজন ফিজিওথেরাপিস্ট হলেও নেশায় তিনি একজন পুরোদস্তুর সংগ্রাহক। গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করা এই তরুণ বর্তমানে গাইবান্ধায় তার এই বিশাল সংগ্রহশালাটি গড়ে তুলেছেন।

বিস্ময়কর সংগ্রহের তালিকায় যা আছে তার এই মিনি জাদুঘরে ইতিহাসের নানা বিচিত্র অনুষঙ্গ রয়েছে:

  • টাইপরাইটার ও প্রযুক্তি: ১৯৪৫ সালের জার্মানিতে তৈরি ইম্পেরিয়াল টাইপরাইটারসহ বিভিন্ন রেয়ার কালেকশন। রয়েছে ডায়াল টেলিফোন, জাহাজের বিশেষ টেলিফোন এবং প্রায় ৭১টি প্রাচীন টেলিফোন।

  • কয়েন ও ব্যাংক নোট: ১৯৭৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রচলিত সব ধরনের কয়েন এবং দুর্লভ ব্যাংক নোটের বিশাল ভাণ্ডার।

  • ক্যামেরা ও রেডিও: ফুজি, অলিম্পিকসহ বিভিন্ন সময়কার ২৫০টিরও বেশি পুরনো ক্যামেরা এবং শতাধিক রেডিও ও ওয়াকম্যান।

  • ব্যক্তিগত ব্যবহৃত সামগ্রী: মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত চশমা ও ঘড়ি (প্রায় ১০০টি আইটেম) এবং বিখ্যাত কবি-সাহিত্যিকদের ব্যবহৃত সামগ্রী।

  • অন্যান্য: প্রায় ১০০০ ক্যাসেট, কুপি বাতি, হাতির দাঁতের তৈরি সিঁদুর দানি, হুক্কা, জেলখানার তালা এবং দুর্লভ সব অভিধান (যেমন- গালি অভিধান)।

সংগ্রাম ও প্রতিবন্ধকতা এই বিশাল সংগ্রহ গড়ে তোলা তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। অনেক সময় প্রয়োজনীয় টাকা না থাকায় পরিবারের কাছে হাত পাততে হয়েছে, যার জন্য শুনতে হয়েছে বকুনি। পাড়া-প্রতিবেশীরা তাকে ‘পাগল’ বলেও সম্বোধন করত। গাইবান্ধা ও ঢাকার বিভিন্ন ভাঙ্গারি দোকান থেকে তিনি এই অমূল্য রতনগুলো সংগ্রহ করেছেন।

ভবিষ্যৎ স্বপ্ন তার ইচ্ছা একটি পূর্ণাঙ্গ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের নেশা থেকে সরিয়ে সংগ্রহের নেশায় উদ্বুদ্ধ করা। তবে পর্যাপ্ত জায়গা এবং আর্থিক সচ্ছলতার অভাবে তিনি এখনো সেগুলো যথাযথভাবে সাজিয়ে প্রদর্শন করতে পারছেন না। তিনি সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা কামনা করছেন যাতে পরবর্তী প্রজন্ম এই ইতিহাসের স্বাদ পেতে পারে।

তার এই ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে, একাগ্রতা থাকলে ধুলোবালি থেকেও ইতিহাসকে পুনর্জীবিত করা সম্ভব।