ফেলে দেওয়া জিনিসেই লাখ টাকার পথ

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পানির বোতল, প্লাস্টিকের কৌটা, রঙের ডিব্বা কিংবা দইয়ের খালি পাত্র—সাধারণত আমরা যা আবর্জনা হিসেবে ফেলে দিই, সেগুলো দিয়েই দৃষ্টিনন্দন ও টেকসই শোপিস তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন গাইবান্ধার এক স্কুল শিক্ষিকা। ফেলে দেওয়া জিনিস থেকে শিল্পকর্ম তৈরি করে তিনি এখন স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন পথ দেখাচ্ছেন। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই অবিশ্বাস্য পরিবর্তনের গল্প উঠে এসেছে।

যেভাবে শুরু এই শিল্পযাত্রা উদ্যোক্তা গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা যখন মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ছিল, তখন তাদের সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখতে তিনি এই উদ্যোগ নেন। শুরুটা করেছিলেন নিজের হাতে একটি ফুলদানি তৈরির মাধ্যমে। এরপর একে একে প্লাস্টিকের বোতল, মেলামাইনের বাটি এবং বাঁশের ঝুড়ি ব্যবহার করে তৈরি করেছেন কলমদানি, বিউটি বক্স, ওয়াল শোপিস এবং শক্তিশালী টুল।

প্রথম কাস্টমার জেলা প্রশাসক (ডিসি) তার এই শিল্পের প্রথম সমাদর করেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক (ডিসি)। তিনি ১০০০ টাকা দিয়ে একটি শোপিস কেনেন এবং পরবর্তীতে ২০ হাজার টাকার বিশাল এক অর্ডার প্রদান করেন। এছাড়া শিক্ষা উপদেষ্টাকে সাড়ে তিন ফুট উচ্চতার একটি বিশাল ফুলদানি উপহার দিয়ে তিনি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

নির্মাণ পদ্ধতি ও স্থায়িত্ব এই শিল্পকর্মের মূল উপাদান হলো ফেলে দেওয়া কাগজের কার্টুন, যা মাত্র ৪-৫ টাকা কেজি দরে পাওয়া যায়। কার্টুনগুলো ভিজিয়ে নরম করে অ্যারারুট মিশিয়ে মণ্ড (Clay) তৈরি করা হয়। এরপর পুরনো প্লাস্টিকের পাত্র বা বালতির ওপর সেই মণ্ড বসিয়ে আকার দেওয়া হয়। শিক্ষিকা দাবি করেন, তার তৈরি করা টুল এতটাই মজবুত যে ওপর থেকে ফেলে দিলেও ভাঙবে না এবং এটি ২০ বছরেও নষ্ট হবে না।

জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬-এ তার এই কার্যক্রম ও উদ্ভাবনী ভাবনা তাকে থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে জয়ী করে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার এনে দিয়েছে। তিনি সাঘাটা উপজেলার ১৩টি বিদ্যালয়ের ৩৫ জন ছাত্রীকে নিয়ে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, যা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যমুনা নদীর উপকূলে চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষদের জন্য বড় আকারে একটি কর্মসংস্থান তৈরির স্বপ্ন দেখছেন এই শিক্ষিকা। অপ্রয়োজনীয় বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করে তিনি পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে চান। তার এই ‘বর্জ্য থেকে শিল্প’ তৈরির উদ্যোগ এখন পুরো গাইবান্ধার জন্য অনুপ্রেরণা।