১৩ টাকায় চলবে ১১০ কিলোমিটার পথ

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: জ্বালানি তেলের লাগামছাড়া দাম এবং অতিরিক্ত যাতায়াত খরচের যুগে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব বাহন হিসেবে ইলেকট্রিক বাইকের কদর দিন দিন বাড়ছে। একসময় যে বাহনকে মানুষ অবহেলা করে ‘খেলনা গাড়ি’ বলত, আজ সেটিই সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। করপোরেট চাকরি ছেড়ে অভিনব এই ই-বাইকের ব্যবসা শুরু করে এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এক উদ্যোমী তরুণ।

উদ্যোক্তা জানান, পূর্বে একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (EV) বিভাগে চাকরির সুবাদে এই খাতের ওপর তার গভীর অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। তেলের দাম যখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে শুরু করে, তখনই তিনি বিকল্প ও সাশ্রয়ী যাতায়াতের কথা ভেবে এই ব্যবসার সূচনা করেন। শুরুতে আশপাশের মানুষ এটিকে নিয়ে হাসাহাসি করলেও তিনি নিজের লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি। বর্তমানে তার শোরুমে ৬০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকার মধ্যে টেকআউট স্পোর্টস মডেল, গোল্ডেন ক্রাউন পুলিশ মডেল, তিন চাকার বিশেষ বাহন এবং তরুণদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ‘ফ্যালকন এ৮৮’ (যাতে আধুনিক এমটি-১৫ সাসপেনশন রয়েছে) এর মতো আকর্ষণীয় বৈদ্যুতিক বাইক পাওয়া যায়। সাধারণ পেট্রোল বাইকে ১ লিটার তেলে যেখানে মাত্র ৪০ কিমি পথ পাড়ি দেওয়া যায়, সেখানে মাত্র ১৩ টাকার বিদ্যুৎ খরচে (১ ইউনিট) এই বাইকে প্রায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার পথ অনায়াসে চলা যায়। ব্যবসার পাশাপাশি গ্রাহকদের ৩ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি এবং লিথিয়াম ব্যাটারিতে দীর্ঘমেয়াদী গ্যারান্টি প্রদান করা হয়। এমনকি ক্রেতাদের আর্থিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে আস্থার ভিত্তিতে আংশিক বাকিতে গাড়ি ক্রয়ের সুযোগও রেখেছেন তিনি।

চাকরির পিছে না ছুটে নিজ মেধা, দক্ষতা ও সঠিক দূরদর্শিতায় পরিবেশবান্ধব ই-বাইক ব্যবসার এই উদ্যোগ গ্রামীণ জনপদে যাতায়াত ও অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।