মাত্র ১৩ টাকায় যেতে পাড়বেন ১১০ কিলমিটার

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জ্বালানি তেলের লাগামহীন দাম আর পরিবেশ দূষণের এই সময়ে বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ইলেকট্রিক বাইক (ই-বাইক)। এক সময় যা কেবল ‘খেলনা গাড়ি’ হিসেবে পরিচিত ছিল, এখন তা সাশ্রয়ী যাতায়াতের প্রধান হাতিয়ার। ফরচুনা গ্রুপের চাকরি ছেড়ে ইলেকট্রিক বাইকের ব্যবসায় নামা এক তরুণ উদ্যোক্তার সফলতার গল্প উঠে এসেছে ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলের একটি ভিডিওতে।

চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা জীবনে এই উদ্যোক্তা আগে ফরচুনা গ্রুপের জুনিয়র অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে ইলেকট্রিক ভেহিকেল ডিপার্টমেন্টে কর্মরত ছিলেন। অন্যের অধীনে শ্রম না দিয়ে নিজে কিছু করার স্বপ্ন থেকেই তিনি ই-বাইকের শোরুম গড়ে তোলেন। বর্তমানে তার শোরুমে বিভিন্ন মডেলের আধুনিক ও আকর্ষণীয় ইলেকট্রিক বাইক পাওয়া যাচ্ছে।

আকর্ষণীয় মডেল ও দামের তালিকা শোরুমে থাকা জনপ্রিয় কিছু মডেলের বর্তমান দর নিচে দেওয়া হলো:

  • ফালকন এ৮৮ (Falcon A88): এটি বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের প্রথম পছন্দ। উন্নত সাসপেনশন সমৃদ্ধ এই বাইকটির দাম ১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।

  • গোল্ডেন ক্রাউন পুলিশ মডেল: আকর্ষণীয় ডিজাইনের এই বাইকটির দাম ১ লাখ ১২ হাজার টাকা (আগের স্টক অনুযায়ী ১ লাখ ৬ হাজার টাকায় বিক্রয় করা হচ্ছে)।

  • টেকআউট মডেল (Takeout): হাইওয়েতে চালানোর উপযোগী স্পোর্টস মোড সমৃদ্ধ এই বাইকটির দাম ১ লাখ ১১ হাজার টাকা।

  • থ্রি-হুইলার: বয়স্ক বা স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের জন্য উপযোগী এই গাড়ির দাম ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া সাশ্রয়ী আরেকটি মডেল পাওয়া যাচ্ছে ৬০ হাজার টাকায়।

অবিশ্বাস্য সাশ্রয় উদ্যোক্তার দেওয়া তথ্যমতে, সাধারণ বাইকে ১২০ টাকার তেলে যেখানে মাত্র ৪০ কিমি যাওয়া যায়, সেখানে এই ই-বাইকে মাত্র ১৩ টাকার বিদ্যুৎ খরচ করে ১১০ কিমি পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব। আবাসিক সংযোগে এই খরচ আরও কম হয়। এছাড়া মাসে প্রায় ৩০০০ কিমি চালালে খরচ হবে মাত্র ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা।

গ্যারান্টি ও কিস্তি সুবিধা ক্রেতাদের সুবিধার্থে তিনি বিশেষ কিছু সুবিধা প্রদান করছেন:

  • ব্যাটারির ওপর ২ থেকে ৩ বছরের গ্যারান্টি এবং ৩ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি।

  • লিথিয়াম ব্যাটারির ক্ষেত্রে ৫ বছর পর্যন্ত সেবা পাওয়ার নিশ্চয়তা।

  • বিশ্বস্ত ক্রেতাদের জন্য সহজ কিস্তিতে (২ মাস) টাকা পরিশোধের সুযোগ।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শুরুতে অনেকে ‘খেলনা গাড়ি’ বলে হাসাহাসি করলেও এখন এই বাইকের চাহিদা ব্যাপক। উদ্যোক্তা আশাবাদী যে, ভবিষ্যতে ইলেকট্রিক বাইকের বাজার আরও বড় হবে। তিনি পর্যায়ক্রমে তার ব্যবসার পরিধি বাড়িয়ে দেশের যাতায়াত ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চান।