পলিথিন নিষিদ্ধ: পাটের বস্তায় শত শত নারীর কর্মসংস্থান 

দেশজুড়ে পলিথিন ও প্লাস্টিক নিষিদ্ধ হওয়ার পর সারাদেশে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে সোনালী আঁশ খ্যাত পাট শিল্প। এরই ধারাবাহিকতায় গাইবান্ধা বিসিক শিল্পনগরীতে পাটের সুতা দিয়ে তৈরি হচ্ছে লাখ লাখ টাকার পরিবেশবান্ধব বস্তা। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার বস্তা উৎপাদনের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা পাচ্ছে, অন্যদিকে স্বাবলম্বী হচ্ছেন স্থানীয় কয়েকশ নারী ও পুরুষ।

নিজস্ব প্রতিবেদক | গাইবান্ধা

দেশজুড়ে পলিথিন ও প্লাস্টিক নিষিদ্ধ হওয়ার পর সারাদেশে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে সোনালী আঁশ খ্যাত পাট শিল্প। এরই ধারাবাহিকতায় গাইবান্ধা বিসিক শিল্পনগরীতে পাটের সুতা দিয়ে তৈরি হচ্ছে লাখ লাখ টাকার পরিবেশবান্ধব বস্তা। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার বস্তা উৎপাদনের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা পাচ্ছে, অন্যদিকে স্বাবলম্বী হচ্ছেন স্থানীয় কয়েকশ নারী ও পুরুষ।

উৎপাদন ও পণ্যের ধরণ

গাইবান্ধার এই আধুনিক কারখানায় ধান, চাল, গম এবং আলু রাখার জন্য বিভিন্ন মাপের বস্তা তৈরি করা হচ্ছে। মূলত সরকারি মান বজায় রেখে ৩০ কেজি, ৫০ কেজি এবং ৮০ কেজি ধারণক্ষমতার বস্তা এখানে উৎপাদিত হয়। বিএডিসি-র বীজের ব্যাগ থেকে শুরু করে সাধারণ চালের বস্তা—সবই তৈরি হচ্ছে নিপুণ কারুকার্যে।

নারী শক্তির জয়গান

এই কারখানার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো নারী শ্রমিকের প্রাধান্য। কারখানার কর্মকর্তাদের মতে, এখানে পুরুষের চেয়ে নারী শ্রমিকরা বেশি কর্মঠ ও দক্ষ। বর্তমানে প্রায় ১৭০ জন নারী এবং ৫০ জন পুরুষ এখানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন। সেলাই থেকে শুরু করে প্রিন্টিং—সব বিভাগেই নারীদের আধিপত্য চোখে পড়ার মতো।

কারখানার এক কর্মী জানান: "আমরা আগে অভাব-অনটনে দিন কাটাতাম। এখন এই কারখানায় কাজ করে আমরা পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছি। এখানে কাজের পরিবেশও খুব ভালো।"

আধুনিক প্রিন্টিং ও নিরাপত্তা

বস্তা তৈরির পর সেগুলোতে সিল বা প্রিন্টিংয়ের কাজও করা হয় অত্যন্ত যত্নসহকারে। শ্রমিকরা হাতে গ্লাভস ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার বস্তা প্রিন্ট করেন। উৎপাদিত এই পণ্যগুলো মূলত সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে ফুড অফিস ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সরবরাহ করা হয়।

সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, প্লাস্টিক নিষিদ্ধ হওয়ার পর পাটের বস্তার চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে। তবে বিসিক শিল্পনগরীতে জায়গার স্বল্পতা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং অনুন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা তাদের বড় চ্যালেঞ্জ।

কারখানার প্রতিনিধি বলেন:

"সরকার যদি আমাদের আরও প্লটের ব্যবস্থা করে দেয়, তবে আমরা আরও দেড়শ থেকে দুইশ মানুষের কর্মসংস্থান করতে পারব। বিসিকের মেইন গেটে সিসি ক্যামেরা এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হলে আমাদের ব্যবসা আরও প্রসারিত হবে।"

কীভাবে যাবেন?

গাইবান্ধা শহরের নতুন জেলখানার পাশেই বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত এই কারখানাটি (ওহি জুট ফাইবার্স)। স্থানীয় যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই এই শিল্পনগরীর খোঁজ পাওয়া যাবে।