ফেলে দেয়া কলম থেকে গাছের চারা ! 

প্লাস্টিক দূষণ রোধে এবং পরিবেশ রক্ষায় এক অভিনব ও অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোগ নিয়েছে একদল স্কুল শিক্ষার্থী। ব্যবহারের পর সাধারণত আমরা প্লাস্টিকের কলম ডাস্টবিনে ফেলে দিই, যা বছরের পর বছর মাটিতে পচে না এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে। কিন্তু এই খুদে উদ্ভাবকদের তৈরি কাগজের কলম মাটিতে ফেললেই তা থেকে জন্ম নেবে পেঁপে, তুলসী বা মরিচ গাছ।

নিজস্ব প্রতিবেদক | গাইবান্ধা : 

প্লাস্টিক দূষণ রোধে এবং পরিবেশ রক্ষায় এক অভিনব ও অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোগ নিয়েছে একদল স্কুল শিক্ষার্থী। ব্যবহারের পর সাধারণত আমরা প্লাস্টিকের কলম ডাস্টবিনে ফেলে দিই, যা বছরের পর বছর মাটিতে পচে না এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে। কিন্তু এই খুদে উদ্ভাবকদের তৈরি কাগজের কলম মাটিতে ফেললেই তা থেকে জন্ম নেবে পেঁপে, তুলসী বা মরিচ গাছ।

যেভাবে কাজ করে এই ‘বীজ কলম’

গাইবান্ধার একদল তরুণ শিক্ষার্থী তাদের স্কুলের শিক্ষক সঞ্জয় চৌধুরীর অনুপ্রেরণায় তৈরি করছে বিশেষ এই কাগজের কলম। কলমটির পুরো দেহ তৈরি করা হয়েছে সাধারণ কাগজ দিয়ে, আর এর শেষ প্রান্তে সুকৌশলে বসানো হয়েছে বিভিন্ন গাছের বীজ।

শিক্ষার্থীরা জানায়, কলমটি ব্যবহারের পর যখন এর কালি শেষ হয়ে যায়, তখন এটি মাটিতে ফেলে দিলে বা গেড়ে দিলে কাগজের অংশটি পচে মাটির সাথে মিশে যায়। এরপর এর ভেতরে থাকা বীজ থেকে পানির সংস্পর্শে চারা গাছ জন্মায়। ইতিমধ্যে তারা পরীক্ষামূলকভাবে অনেকগুলো কলম থেকে পেঁপে ও মরিচের চারা উৎপাদনে সফল হয়েছে।

সুবিধা ও বিশেষত্ব

সাধারণ প্লাস্টিকের কলমের তুলনায় এই কলমটি ব্যবহারের কিছু বাড়তি সুবিধাও রয়েছে:

  • পরিবেশবান্ধব: এটি সম্পূর্ণ পচনশীল এবং কোনো বর্জ্য তৈরি করে না।

  • লিখতে আরামদায়ক: প্লাস্টিকের কলম দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের ফলে হাত ঘামলে পিচ্ছিল হয়ে যায়, কিন্তু কাগজের কলম ঘাম শুষে নেয়, ফলে লিখতে সুবিধা হয়।

  • সাশ্রয়ী: প্রতিটি কলমের দাম রাখা হয়েছে মাত্র ১০ টাকা

অল্প পুঁজিতে বড় স্বপ্ন

মাত্র এক হাজার টাকা মূলধন নিয়ে এই ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করেছিল শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে তাদের মূলধন পাঁচ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। যদিও তারা এসএসসি পরীক্ষার্থী হওয়ায় সব সময় চাহিদা অনুযায়ী কলম সরবরাহ করতে পারছে না, তবে সপ্তাহে ১০-১৫টি কলম তারা নিয়মিত বিক্রি করছে।

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য

শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং প্রতিবেশী দেশগুলোতেও এই পরিবেশবান্ধব কলম পৌঁছে দেওয়া। তারা মনে করে, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হলে এখন থেকেই প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পণ্যের দিকে ঝুঁকতে হবে।

উদ্যোক্তারা বলেন: "আমরা চাই পরিবেশকে বাঁচাতে। আমরা যদি গাছ লাগিয়ে বা প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে পৃথিবীকে বাসযোগ্য না করি, তবে ভবিষ্যতে আমাদেরই অসুবিধা হবে।"

গাইবান্ধার এই তরুণদের ‘সামা’ (SAMA) নামক পেজের মাধ্যমে এই উদ্ভাবনী কলমটি সংগ্রহ করা যাচ্ছে।