ফুলছড়িতে গৃহবধূ হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল
গাইবান্ধার ফুলছড়িতে গৃহবধূ রহিমা আক্তার শিল্পীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্রমেই ক্ষোভ বাড়ছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপজেলা পরিষদ গেটে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
গাইবান্ধার ফুলছড়িতে গৃহবধূ রহিমা আক্তার শিল্পীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্রমেই ক্ষোভ বাড়ছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপজেলা পরিষদ গেটে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করে নিহতের স্বজন ও উদাখালী ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামবাসী। কয়েক শতাধিক নারী-পুরুষ ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে মানববন্ধনে অংশ নেন। পরে তারা কালিরবাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, নিহতের বোন রুবি বেগম, ভাই মোহাম্মদ আলী, প্রতিবেশী মকবুল হোসেন ও মোত্তালেব মিয়া প্রমুখ। বক্তারা দাবি করেন, রহিমা আক্তার শিল্পীর মৃত্যু আত্মহত্যা নয়, এটি পরিকল্পিত হত্যা। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্বামী সোলায়মান মিয়ার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন। তারা আরও বলেন, সোলায়মান মিয়া মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রায় দুই মাস আগে রহিমা আক্তার শিল্পী তাকে তালাক দিয়ে ঢাকায় আত্মগোপনে চলে যান। পরে জোরপূর্বক তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয় এবং ওই রাতেই তাকে পাশবিকভাবে ধর্ষণ ও নির্যাতন করে সোলায়মান মিয়া ও তার অন্য স্ত্রীরা মিলে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেন। পরবর্তীতে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করেন।
নিহতের ভাই মোহাম্মদ আলী জানান, হত্যাকান্ডের পরপরেই তিনি বাদী হয়ে ফুলছড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোলায়মান মিয়াকে প্রধান আসামি, তার দুই স্ত্রী আজমেরি, লিজা ও সহযোগি সিরাজুল ইসলামকে আসামী করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই তারা পলাতক রয়েছেন। তিনি বলেন, হত্যাকান্ডের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও কোন আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। তিনি দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবী জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২০ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় ফুলছড়ি উপজেলার দক্ষিণ চন্দিয়া গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে রহিমা আক্তার শিল্পীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, তাকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়।



