মাছ ভাগাভাগি করে নিলেন কর্মকর্তারা

মাছ ভাগাভাগি করে নিলেন কর্মকর্তারা

মাছ ভাগাভাগি করে নিলেন কর্মকর্তারা

সংযোগ ডেস্ক: 
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে হলো মাছ ধরার উৎসব। সাধারণ মানুষের নয়, এই উৎসব করেছেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। উৎসব করে সরকারী পুকুর থেকে মাছ ধরার পর সেই মাছ আবার  ভাগাভাগি করে নিয়েছেন উপজেলা প্রশাসনের সরকারি কর্মকর্তারা । 

তবে উল্লাস করে মাছ ধরার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি। তিনি বলেন, পুকুরে কি পরিমাণ মাছ আছে সেটি দেখার জন্য জাল ফেলানো হয়েছিলো। কিন্তু কোনো মাছ ধরে নেয়া হয়নি।

বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প (এডিপি)'র বরাদ্দের টাকায় সরকারী ওই পুকুরে মাছের পোনা ছেড়ে দেয়া হয়। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী গরীব, দুঃখী, দুঃস্থ ও অসহায় মানুষ এবং এতিমখানায় বিতরণের কথা থাকলেও তা মানেননি তারা। 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলা প্রশাসনের কর্মচারী ও আনসার সদস্যদের পাহাড়ায় ভ্যানে করে মাছভর্তি বস্তাগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে ভাগাভাগি করে নেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
 
স্থানীয়রা জানান, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে যখন রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছিলো। ঠিক সেই সময়ে মাছ ধরার উৎসব দেখা যায় সুন্দরগঞ্জে। পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরার পর সরকারি কর্মকর্তারা ভাগাভাগি করে নেন। কোনো গরীব বা অসহায় মানুষদের দেয়া হয়নি একটি মাছও। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ইউএনও'র নির্দেশে পুকুরের মাছ ধরা হয়েছে। পরে সেগুলো ভাগবাটোয়ারা করে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে বন্টন করা হয়। 

পুকুর পাড়ের রড সিমেন্ট ব্যবসায়ী মো. শফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'আনন্দ উল্লাস করে ৬ বস্তা মাছ ধরেন তারা। আনছার সদস্যরা সেগুলো মেনছের আলীর ভ্যানে করে ইউএনও'র বাসভবনের সামনে নিয়ে যান।'

উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব মো মাহমুদুল ইসলাম প্রমাণিক বলেন, রাষ্ট্রীয় ভাবে যখন শোক পালন করা হয়, তখন এভাবে আনন্দ-উল্লাস করে মাছ ধরার উৎসব দৃষ্টিকটু।