‘মান-ইজ্জত সবই গেলো বেঁচে থাকবো কেমনে’

জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ধর্ষণচেষ্টা, মারধর ও অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ এনে ন্যায়বিচারের দাবিতে গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন সদরের উজির ধরনীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা নূরুন নাহার।

‘মান-ইজ্জত সবই গেলো বেঁচে থাকবো কেমনে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

মান সম্মান সবই গেলো, কোথাও বিচার পাইনি। পুলিশ কয়- সাপের ল্যাজোত পাও দিছেন ক্যা! তাই আর বাঁচার ইচ্ছে করেনি- বাধ্য হয়ে নিজেকে শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।' গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন এক ভূক্তভোগী নারী।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় গাইবান্ধা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সদরের উজির ধরনীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা নূরুন নাহার এসব অভিযোগ করেন।

জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ধর্ষণচেষ্টা, মারধর ও অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ এনে ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন তিনি অভিযোগ করেন, থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও মামলা গ্রহণ করা হয়নি। অপমান ও সামাজিক চাপে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন; বর্তমানে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ আছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী এএইচএম জিয়াউর রহমান খানের বাড়ি ও জমিজমা দেখাশোনা করে আসছেন তিনি। ওই জমিজমা নিয়ে এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মাটি কাটার অভিযোগে সদর থানায় একটি মামলা হয়। এর পরদিন ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে কবির খান পলাশ ও ইমতিয়াজ খান রওনক তাঁর পথরোধ করে জিয়াউর রহমান খানের মানহানি ঘটাতে ধর্ষণের মিথ্যা ঘটনা সাজানোর প্রস্তাব দিয়ে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পুনরায় চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন কয়েকজন তাঁকে গণধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে বেধড়ক মারধর করেন। পরে আরও কয়েকজন মিলে তাঁকে টানা-হেঁচড়া করে একটি ঘরে নিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখেন। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন করলে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে।

ভুক্তভোগী জানান, তিনি গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। একজন নারী হিসেবে ন্যায়বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পেয়ে নিজেকে শেষ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং আত্নহননের চেষ্টা করেন।