৬৫ বছর বয়সেও মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে ফল বিক্রি করেন বৃদ্ধ

ফল বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

শরীরে বার্ধক্যের ছাপ, চোখেও ঝাপসা দেখেন। অথচ প্রতিদিন মাইলের পর মাইল ভ্যান ঠেলে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ফল পৌঁছে দেন ৬৫ বছর বয়সী সেকেন্দার আলী। কখনো অভাবের তাড়নায় শুধু পানি খেয়েই রোজা রাখতে হয় তাকে। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই জীবনসংগ্রামী বৃদ্ধের করুণ অথচ লড়াকু জীবনকাহিনী উঠে এসেছে।

৩৫ বছরের সংগ্রাম সেকেন্দার আলী দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে ফল বিক্রির পেশায় জড়িত। শুরুতে ডালিতে করে কলা বিক্রি করলেও পরে স্থানীয়দের সহায়তায় একটি ভ্যান গাড়ি পান। সেই ভ্যানে করেই প্রতিদিন কমলা, আঙুর, খেজুর ও কলা নিয়ে গাইবান্ধার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও সদর হাসপাতালে ঘুরে বেড়ান তিনি।

অনাহারে সেহরি ও রোজা রমজান মাসেও তার কষ্টের বিশ্রাম নেই। তিনি জানান, অভাবের কারণে অনেক সময় বাড়িতে খাবার থাকে না। পরিবারের ৫-৬ জন সদস্যকে নিয়ে শুধু পানি খেয়েই সেহরি করতে হয় তাকে। সারাদিন রোজা রেখে ক্লান্ত শরীরে মাইলের পর মাইল পথ হাঁটেন। ইফতারের পর ডাল-ভর্তা বা চা-রুটি খেয়েই রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পরিশ্রম করেন।

শারীরিক অসুস্থতা ও অভাবের সংসার ৬৫ বছর বয়সে এসে শরীর আর আগের মতো সায় দেয় না। চোখে কম দেখার কারণে অনেক সময় কাস্টমাররা টাকা দিয়ে তাকে ঠকিয়ে চলে যান। পায়ে পুরনো ক্ষতের কারণে প্রতিদিন দুই বেলা ১৫-১৬টি ওষুধ খেতে হয় তাকে। এত কষ্টের পরও দিনশেষে তার আয় হয় মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, যা দিয়ে পরিবারের জন্য চাল-ডাল ও সামান্য সবজি কেনাই দায় হয়ে পড়ে।

ঋণের বোঝা ও স্বপ্ন ব্যবসার পুঁজি জোগাতে গিয়ে তিনি ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছেন। কিস্তির টাকা শোধ করতেই তার আয়ের সিংহভাগ চলে যায়। তার ইচ্ছা, যদি কোনো স্থায়ী দোকান দিতে পারতেন, তবে এই বয়সে আর পথে পথে ঘুরতে হতো না। কিন্তু একটি ছোট দোকানের জন্য অগ্রিম এক লক্ষ টাকা দেওয়ার সামর্থ্য তার নেই।

সবার ভালোবাসা এত কষ্টের মাঝেও তার একমাত্র প্রাপ্তি মানুষের ভালোবাসা। গাইবান্ধার বিভিন্ন বাসাবাড়ির মানুষ তাকে চেনেন এবং শ্রদ্ধা করেন। বৃষ্টির দিনে ভিজে ভিজে ফল বিক্রি করলেও মানুষ তাকে ভালোবেসে তার কাছ থেকে ফল কেনেন।

সেকেন্দার আলীর জীবন আমাদের শেখায় যে, বেঁচে থাকার লড়াই কতটা কঠিন হতে পারে। তার এই নিরন্তর সংগ্রাম সমাজের বিত্তবানদের জন্য এক বড় বার্তা।