কেয়ারটেকার থেকে কোটি টাকার মালিক
উদ্যোক্তা
ইউটিউব ভিডিওর তথ্যের ভিত্তিতে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের ফরম্যাটে প্রতিবেদনটি নিচে দেও
নিজস্ব প্রতিবেদক :
জীবন যুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য প্রয়োজন কেবল অদম্য ইচ্ছা আর পরিশ্রম। গাইবান্ধার এক ব্যক্তি, যিনি একসময় ছিলেন একটি মাছের খামারের কেয়ারটেকার, আজ তিনি নিজেই কোটি টাকার মাছের প্রজেক্টের মালিক। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই সফল উদ্যোক্তার দীর্ঘ যাত্রার কাহিনী উঠে এসেছে।
শুরুর দিনগুলো ও মালিকানা পরিবর্তন এই হ্যাচারি বা খামারের যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রায় ৪৫ বছর আগে। গাইবান্ধার একজন বড় ঠিকাদার এটি পরিচালনা করতেন। বয়সের ভারে এবং পারিবারিক কারণে তিনি যখন এটি চালাতে পারছিলেন না, তখন তার কেয়ারটেকারকে এটি পরিচালনার দায়িত্ব দেন। শুরুতে ৭৫ হাজার টাকা মাসিক চুক্তিতে তিনি খামারটি লিজ নেন। পরবর্তীতে চুক্তির অংক বেড়ে লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়।
বিনিয়োগ ও বর্তমান সম্পদ খামারের ব্যবসার প্রসারে তিনি বড় ধরনের ঝুঁকি নেন। এক দফায় প্রায় ১১.৫ লক্ষ টাকার মাছ একবারে কিনে নেন তিনি। বর্তমানে তার এই প্রজেক্টে ৩০ থেকে ৩২ লক্ষ টাকা ক্যাশ ইনভেস্ট করা আছে। তার দাবি, বর্তমানে খামারে যে পরিমাণ মাছ ও সম্পদ আছে, তা বিক্রি করলে ১ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
খামারের আয়তন ও মাছের ধরন পুরো প্রজেক্টটি ২০ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার মধ্যে ১৮.৫ বিঘা জুড়েই রয়েছে মাছের পুকুর। এখানে মূলত ‘মনোসেক্স তেলাপিয়া’ এবং বিভিন্ন ‘বাংলা মাছের’ রেনু ও পোনা উৎপাদন করা হয়। তেলাপিয়ার ব্রুড মাছগুলো বিদেশ থেকে আনা উন্নত জাতের, যার বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
কর্মসংস্থান ও বাজারজাতকরণ বর্তমানে এই খামারে ১২ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন, যাদের মাসিক বেতন ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। উৎপাদিত মাছ ও রেনু ঢাকা, রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর, পঞ্চগড়সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। গ্রাহকরা মোবাইলের মাধ্যমেই অর্ডার ও পেমেন্ট সম্পন্ন করেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উদ্যোক্তা তার ছেলেকে এই কাজের জন্য তৈরি করছেন। ছেলের চাকরির পেছনে না ছুটে তাকে এই ব্যবসায়িক উত্তরাধিকারী হিসেবে গড়ে তুলছেন তিনি। তার অনুপস্থিতিতে ছেলে যাতে নিপুণভাবে এই বিশাল প্রজেক্ট পরিচালনা করতে পারে, সেজন্য তাকে হাতে-কলমে শিক্ষা দিচ্ছেন।
শূন্য থেকে শুরু করে আজ কোটি টাকার মালিক হওয়া এই মৎস্য খামারির গল্প গাইবান্ধা অঞ্চলের বেকার যুবকদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।



