৮০০ টাকার পুঁজি থেকে লাখপতি: হালিম বিক্রেতা জাহিদুলের অদম্য যাত্রা
হালিম
গাইবান্ধার কালীরবাজারের বিখ্যাত হালিম বিক্রেতা জাহিদুলের জিরো থেকে হিরো হওয়ার গল্প নিয়ে একটি স্ক্রিপ্ট নিচে দেওয়া হলো:
৮০০ টাকার পুঁজি থেকে লাখপতি: হালিম বিক্রেতা জাহিদুলের অদম্য যাত্রা
এই যে ব্যবসা দেখছেন, এটা শুরু হয়েছিল মাত্র ৮০০ টাকা দিয়ে। আজকে দিনে প্রায় ১১ থেকে ১২ হাজার টাকার মাংস কিনি আর বিক্রি করি ১৬ থেকে ২০ হাজার টাকা। অথচ এক সময় চালের কেজি ১৩ টাকা ছিল, সেটাই জোগাড় করা মুসিবত ছিল আমার জন্য।
আমি আগে ঢাকা শহরে রিকশা চালাতাম। রিকশা চালাতে চালাতে ফরিদাবাদে এক শরীয়তপুরের ভাইয়ের সাথে পরিচয় হয়, যিনি হালিম বিক্রি করতেন। তার কাছে পরামর্শ নিতাম যে ভাই, আমাকে একটা পথ দেখান, রিকশা চালাতে আর ভালো লাগে না। উনার কাছেই কাজ শিখলাম। এরপর গ্রাম ব্যাংক থেকে ৮০০০ টাকা ঋণ নিয়ে ভ্যানগাড়ি আর হাড়ি-পাতিল কিনে ব্যবসা শুরু করি।
আমার দোকানে কোনো বাইরের কর্মচারী নেই। আমি, আমার দুই ছেলে, এমনকি আমার স্ত্রীও এই কাজে সাহায্য করে। আমরা সবাই মিলে একটা টিম হিসেবে কাজ করি। আমার স্ত্রী প্রতিদিন ১০ কেজি ময়দার রুটি বানিয়ে দেয়, যা প্রায় ৩০০০ টাকার মতো বিক্রি হয়। আমার এখানে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত হালিম পাওয়া যায়। এছাড়া গরুর বট ৭০ টাকা প্লেট।
আমি কখনোই কালোবাজারি বা খারাপ মাংস দিয়ে ব্যবসা করি না। অনেকে আমাকে জেলাস হয়ে এলাকা থেকে তাড়ানোর চেষ্টাও করেছে, কিন্তু মানুষের ভালোবাসায় আমি টিকে আছি। পুরো গাইবান্ধা জেলা থেকে মানুষ আমার এখানে হালিম খেতে আসে। মাত্র ২-৩ ঘণ্টার ব্যবসায় আল্লাহ আমাকে বরকত দেন।
আমার বাবার কিছু ছিল না। কিন্তু এই হালিম বিক্রি করেই আমি দোতলা বাড়ি করেছি। যার ৫০ বিঘা জমি আছে সেও যা পারেনি, আমি তা করে দেখিয়েছি। এখন আমার একটাই স্বপ্ন, ঋণের টাকাগুলো শোধ করে আল্লাহর ঘরে ওমরাহ হজ করতে যাওয়া।
ইউটিউব ভিডিও লিঙ্ক:



