‘সেনাবাহিনীর সাহায্য ছাড়া হয়তো আজ আমি বেঁচে থাকতাম না’
সেনাবাহিনী
মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরা: ১৯ বছর পর সুদান থেকে মুমিনুল হকের প্রত্যাবর্তন
২০০৪ সালে কাজের খোঁজে সুদানে গিয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে সেখানে বেশ ভালো পজিশনে ছিলাম, গাড়ি-বাড়িও করেছিলাম। কিন্তু ২০২৩ সালের ১৫ই এপ্রিল সব ওলটপালট হয়ে গেল। হঠাৎ যুদ্ধ শুরু হলো। আমি কাজের সাইটে বন্দি হয়ে গেলাম। চারদিকে শুধু গোলাগুলি আর ক্ষেপণাস্ত্রের শব্দ।
প্রায় তিন মাস আমি একাই একটি বিল্ডিংয়ে বন্দি ছিলাম। এক সপ্তাহের খাবার আমি তিন মাস ধরে একটু একটু করে খেয়ে বেঁচে ছিলাম। এক সময় খাবার শেষ হয়ে গেল, কারেন্ট নেই, নেটওয়ার্ক নেই। পানির অভাবে মরার দশা হয়েছিল আমার। বাধ্য হয়ে সন্ধ্যার পর প্রাণ হাতে নিয়ে ঘর থেকে বের হলাম।
বের হওয়ার পর আধা কিলোমিটার যেতেই সেনাবাহিনী আমাকে সন্ত্রাসী সংগঠনের ‘স্নাইপার’ সন্দেহে আটক করে। প্রায় আট মাস আমি বন্দিখানায় ছিলাম। সেখানে ঠিকমতো খাবার দিত না, দু-তিন দিন পর পর মাত্র দুই লোকমা খাবার মিলত। গোসল ছিল না, ঘুমানোর জায়গা ছিল না। মারধরে আমার শরীরের অবস্থা এমন হয়েছিল যে শুধু হাড্ডিগুলো অবশিষ্ট ছিল।
একদিন তুমুল যুদ্ধের সুযোগে বন্দিখানা থেকে মুক্তি পাই। শরীর এত দুর্বল ছিল যে দুই মিনিট হাঁটলে আর শক্তি পেতাম না। পথে জঙ্গল দিয়ে হেঁটে হেঁটে ১৭ দিন কাটিয়েছি। পুরোনো শক্ত রুটি পানিতে ভিজিয়ে খেয়ে কোনোমতে জীবন বাঁচিয়েছি। পথে কয়েকবার ধরা পড়লেও বাংলাদেশি পরিচয় এবং পাগলের মতো বেশ দেখে তারা আমাকে ছেড়ে দেয়।
হাঁটতে হাঁটতে যখন সুদান ও দক্ষিণ সুদানের বর্ডারে পৌঁছাই, তখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে দেখা হয়। তারা আমাকে গোসল করায় এবং খাবারের ব্যবস্থা করে। তারাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। এরপর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর মিজান এবং ক্যাপ্টেন আশফাক আমার জন্য অনেক পরিশ্রম করেন। তাদের সহযোগিতায় আমি সব কাগজপত্র পাই এবং ইথিওপিয়া হয়ে ঢাকা ফিরে আসি।
বাড়িতে দুই বছর কারো সাথে যোগাযোগ ছিল না। সবাই ধরে নিয়েছিল আমি মারা গেছি। ফিরে এসে দুই সন্তান আর পরিবারের সাথে কথা বলে মনে হলো নতুন জীবন পেলাম। আমার ছেলেটা প্রতিদিন আমাকে ইন্টারনেটে খুঁজত। সেনাবাহিনীর সাহায্য ছাড়া হয়তো আজ আমি বেঁচে থাকতাম না।
ইউটিউব ভিডিও লিঙ্ক: https://youtu.be/W61kgyKhrpw



