এক ঠেলাগাড়ি শ্রমিকের করুণ কাহিনী !

রোদে শরীর ভিজে গোসলের মতো অবস্থা হয়, আর বৃষ্টিতে ভিজে একাকার। ভারী লোড নিয়ে যখন খাড়া ব্রিজ উঠতে হয়, তখন কষ্টের চোটে চোখ দিয়ে জল গড়ায়, ভিজে যায় বুক। তবুও থামার উপায় নেই। অভাবের তাড়নায় আর সন্তানদের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দিতে এভাবেই প্রতিদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন গাইবান্ধার এক ঠেলাগাড়ি শ্রমিক।

নিজস্ব প্রতিবেদক | গাইবান্ধা

রোদে শরীর ভিজে গোসলের মতো অবস্থা হয়, আর বৃষ্টিতে ভিজে একাকার। ভারী লোড নিয়ে যখন খাড়া ব্রিজ উঠতে হয়, তখন কষ্টের চোটে চোখ দিয়ে জল গড়ায়, ভিজে যায় বুক। তবুও থামার উপায় নেই। অভাবের তাড়নায় আর সন্তানদের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দিতে এভাবেই প্রতিদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন গাইবান্ধার এক ঠেলাগাড়ি শ্রমিক।

শরীরের প্রতিটি ক্ষত এক একটি ইতিহাস

ঠেলাগাড়ি ঠেলতে গিয়ে বারবার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন এই শ্রমিক। এক সপ্তাহ আগেই গাড়ি উল্টে তার পা জখম হয়েছে। অতীতে তার বুকের হাড় ভেঙেছে, মাথা ফেটেছে, এমনকি গাড়ির নিচে পড়ে মারাত্মক আঘাতও পেয়েছেন। তিনি বলেন:

"ঠেলাগাড়ি যখন লোড থাকে, ব্রিজ উঠাতে গেলে মনে হয় বুক ফেটে কান্না আসে। কষ্টের কথা কাকে বলব? বিবি-বাচ্চাদের কথা ভাবলে সব কষ্ট সহ্য করে কাজে নামতেই হয়।" 

অসুস্থ শরীরেও বিরামহীন কাজ

শরীরে জ্বর থাকলেও বিশ্রামের সুযোগ নেই তার। প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা আয়ের আশায় তিনি সকাল ৮টা থেকে রাত অবধি কাজ করেন। এই সামান্য আয়ে সংসার চলে না বলে প্রায়ই ঋণ করতে হয়। ঋণের কিস্তি শোধ করতে আবার নতুন করে ধার নিতে হয়- এভাবেই চলছে তার কষ্টের আবর্ত। 

মালের মায়া, শরীরের নয়

বৃষ্টির সময় নিজের শরীর ভিজলেও মহাজনের মালের যাতে ক্ষতি না হয়, সেদিকেই তার কড়া নজর। পলিথিন দিয়ে মাল ঢেকে নিজে ভিজে সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হলেও তিনি কর্তব্যে অবিচল। দোকানের পর দোকানে মাল পৌঁছে দিয়ে দিন শেষে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফেরেন তিনি। 

সম্মান ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন

কষ্টের কাজ হলেও একে সম্মানের চোখেই দেখেন তিনি। তার মতে, কাজ ছোট হোক বা বড়- পরিশ্রম করে খাওয়া সম্মানের। তার একমাত্র স্বপ্ন, হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে হলেও সন্তানদের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে দেওয়া, যাতে তারা তার মতো এমন কষ্টের জীবনে না পড়ে। 

কাজের ক্ষেত্র

গাইবান্ধার গোরস্থান মোড় ও মালা ট্রান্সপোর্টে তিনি প্রতিদিন কাজ করেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা, কখনো বা রাত ৯টা পর্যন্ত চলে তার এই বিরামহীন লড়াই। আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির বাজারে এই মেহনতি মানুষের জীবন-সংগ্রাম আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় সমাজের এক কঠিন বাস্তবতাকে।