`আগে ১২ আনায় ছিল স্বপ্ন- এখন ৫শ টাকাও দুঃস্বপ্ন'
"আগে ১২ আনা আয় করলে সংসার চলত, হাতে টাকাও জমত। আর এখন সারাদিন যা আয় করি, সব খরচ হয়ে যায়।"- কথাগুলো বলছিলেন গাইবান্ধার শনি মন্দির রোডের প্রবীণ তালা-চাবি’র কারিগর। জীবনের ৭৩টি বসন্ত পেরিয়ে আসা এই মানুষটির গল্পে যেমন আছে স্বস্তি, তেমনি আছে বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে টিকে থাকার সংগ্রাম।
নিজস্ব প্রতিবেদক | গাইবান্ধা
"আগে ১২ আনা আয় করলে সংসার চলত, হাতে টাকাও জমত। আর এখন সারাদিন যা আয় করি, সব খরচ হয়ে যায়।"- কথাগুলো বলছিলেন গাইবান্ধার শনি মন্দির রোডের প্রবীণ তালা-চাবি’র কারিগর। জীবনের ৭৩টি বসন্ত পেরিয়ে আসা এই মানুষটির গল্পে যেমন আছে স্বস্তি, তেমনি আছে বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে টিকে থাকার সংগ্রাম।
অতীতের সেই সোনালী দিন
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, যখন ব্যবসা শুরু করেছিলেন তখন বাজার ছিল খুবই সস্তা। মাত্র সাড়ে ৪ আনায় মিলত এক কেজি চাল। ১২ আনা কাজ করলে বাজার করার পরও পকেটে বাড়তি পয়সা থাকত। সেই সময় ড্রাম শিট কেটে তারা নিজ হাতে চাবি তৈরি করতেন। তখন একটি চাবি বানাতে খরচ হতো মাত্র ২ আনা ১০ পয়সা।
দীর্ঘ ৪৭ বছরের প্রবাস ও বর্তমান জীবন
গাইবান্ধার এই কারিগর তার জীবনের দীর্ঘ ৪৭ বছর কাটিয়েছেন চট্টগ্রামে। সেখান থেকে দুই বছর আগে নিজ জন্মভূমিতে ফিরে এসে আবার চাবি তৈরির কাজ শুরু করেছেন। ৭৩ বছর বয়সেও কাজে তার কোনো ক্লান্তি নেই। বরং টাকা পকেটে এলে শরীরে অন্যরকম এক এনার্জি অনুভব করেন বলে মজা করে জানান তিনি।
চাবি তৈরির বিবর্তন: হাত থেকে অটোমেশন
এক সময় চাবি তৈরির জন্য শুধু হাতের কাজ আর রেত-এর ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন চায়না থেকে রেডিমেড চাবি আসে, যেগুলোর শুধু ঘাট কেটে তালা খোলার ব্যবস্থা করে দেন তিনি। তবে আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে তিনি চাবি তৈরির অটোমেশন বা মেশিন ব্যবহারের স্বপ্ন দেখছেন। পুঁজির অভাবে বড় মেশিন কিনতে না পারলেও একটি কপি মেশিন দিয়ে তিনি নিখুঁতভাবে চাবি তৈরির চেষ্টা করছেন।
পারিবারিক টানাপোড়েন ও সংগ্রাম
ব্যক্তিগত জীবনে অনেক চড়াই-উতরাই পার করেছেন এই প্রবীণ। ১৯৯৫ সালে দ্বিতীয় বিয়ের পর সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করেছেন। তবে সম্পত্তির জন্য সন্তানদের সাথে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় কিছুটা দুঃখ তার মনে জমে আছে। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় সংসারের অভাবে যে কাজ শুরু করেছিলেন, আজও সেই কাজের ওপরই তার অটুট ভরসা।
আশার আলো
তিনি মনে করেন, আগে কার্তিক মাসে মানুষ রিলিফের চাল খেয়ে দিন পার করত, সেই তুলনায় বর্তমানের অভাব থাকলেও দেশ অনেকটা এগিয়েছে। শারীরিক দুর্বলতা বা চোখের সমস্যাকে তুচ্ছ জ্ঞান করে তিনি যতদিন সম্ভব এই চাবি তৈরির কাজ করে যেতে চান।
ঠিকানা: শনি মন্দির রোড, আসাজ্জামান স্কুলের দেয়াল সংলগ্ন, গাইবান্ধা।



