ছাদের খামারে সফল এক উচ্চশিক্ষিত তরুণ

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে চার বছর রাজধানীতে চাকরি করার পর বাবার অসুস্থতার কারণে গ্রামে ফিরে আসেন এক তরুণ। বাবার কিডনি রোগের জন্য বাজার থেকে নির্ভেজাল ও পুষ্টিকর খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ায় তিনি নিজের বাড়ির ছাদে শুরু করেন দেশি মুরগির খামার। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও সফলতার গল্প উঠে এসেছে।

উদ্যোগের নেপথ্যে ২০১৭ সালে বাবার অসুস্থতার জন্য ঢাকা ছেড়ে গ্রামে স্থায়ী হন এই তরুণ। বাজারে মুরগি ও ডিমে থাকা অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক এবং ভেজাল খাবারের হাত থেকে পরিবারকে রক্ষা করতে তিনি নিজের ছাদে মাত্র ৫-৭টি মুরগি দিয়ে যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে ২০২৬ সাল নাগাদ তার খামারটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও লাভজনক মডেলে রূপ নিয়েছে।

খামার ব্যবস্থাপনা ও ঘর নির্মাণ তিনি বাড়ির ছাদে প্রায় ১০০ স্কয়ার ফিট জায়গায় মুরগির শেড তৈরি করেছেন। ঘরটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে। ঘরটি তৈরিতে ইটের পিলার ও নেটের পেছনে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। বর্তমানে তার খামারে প্যারেন্টস মুরগিসহ কয়েকশ মুরগি রয়েছে।

রোগবালাই ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা শুরুতে কিছু মুরগি মারা গেলেও অভিজ্ঞ খামারিদের পরামর্শে তিনি ভ্যাকসিন দেওয়া বন্ধ করেন এবং বিস্ময়করভাবে ২০১৯ সালের পর থেকে তার একটি মুরগিও অসুখে মারা যায়নি। তিনি মূলত প্রাকৃতিক উপায়ে এবং ঘরোয়া চিকিৎসায় মুরগির যত্ন নেন। কৃমির ওষুধের জন্য তিনি সরকারি পশু হাসপাতালের ওপর নির্ভর করেন।

খাবার ও ব্যয় মুরগিকে তিনি লেয়ার ফিডের পাশাপাশি নিজস্ব জমির ধান এবং ভুট্টা মিক্স করে খাওয়ান। মাসে তার খাবারের পেছনে খরচ হয় প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা।

আয় ও পুষ্টির জোগান এই খামার থেকে তিনি প্রতি সপ্তাহে নিজের পরিবারের জন্য ৪টি করে মুরগি জবাই করেন। মাসে প্রায় ২৮-৩০টি মুরগি খাওয়ার পরেও তার ৪-৫ হাজার টাকা নিট লাভ থাকে। এছাড়া পরিবারের ৫ জন সদস্য প্রতিদিন গড়ে ৭-৮টি করে টাটকা ডিম খেতে পারেন, যা বাজার থেকে কেনার প্রয়োজন হয় না।

ভবিষ্যৎ ভাবনা ও সার্থকতা নিজের ইনকিউবেটরের মাধ্যমে তিনি ডিম থেকে বাচ্চা ফোটান এবং প্রতি তিন মাস অন্তর উদ্বৃত্ত মুরগি স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করেন। তিনি মনে করেন, বড় পরিসরে ৪০০০ মুরগির সেটআপ করলে শ্রম একই লাগত কিন্তু লাভের পরিমাণ অনেক বেড়ে যেত। তবে আপাতত পরিবারের জন্য নির্ভেজাল প্রোটিন নিশ্চিত করাই তার সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

উচ্চশিক্ষা শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে এমন স্বাস্থ্যসম্মত ও সৃজনশীল উদ্যোগ বেকার যুবকদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।