গাইবান্ধার পাকুড়িয়া বিলে কোটি টাকার মাছ চাষ

স্বাবলম্বী অর্ধশতাধিক পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক :

গাইবান্ধার অন্যতম বড় জলমহাল পাকুড়িয়া বিল এখন মাছ চাষের এক বিশাল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রায় ১২০ একর আয়তনের এই বিলে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে নিজেদের ভাগ্য বদলেছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই বিলের মাছ চাষের কর্মযজ্ঞ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

বিলের আয়তন ও ব্যবস্থাপনা পাকুড়িয়া বিলের মোট আয়তন ১২০ একর, যার মধ্যে ৫৬ একর সরকারি খাস জমি এবং বাকি ৬০ একরের বেশি জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন। ২০০৬ সাল থেকে স্থানীয় মৎস্যজীবী সমিতির মাধ্যমে এই বিলটি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। বর্তমানে ২০২৪ সালেও সমিতির অধীনেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে।

মাছ চাষের পদ্ধতি ও প্রজাতি বিলে রুই, কাতল, কার্পু, সিলভার কার্প, ব্রিগেড, হাংরি ও গ্লাস কাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়। প্রতি বছর বিলে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ মণ পোনা মাছ ছাড়া হয়। মাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য এখানে প্রাকৃতিক খাবারের পাশাপাশি অটো ফিড ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে বর্ষার সময় চারপাশের জমি থেকে আসা জৈব সার মাছের প্রাকৃতিক খাবার তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে।

কর্মসংস্থান ও বাজারজাতকরণ এই বিলকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫০-৬০ জন মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে পাহারাদার, জেলে ও পাইকাররা রয়েছেন। উৎপাদিত মাছ স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে গাইবান্ধা সদর, পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ এবং সাদুল্লাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাজারজাত করা হয়।

আয় ও ব্যয়ের হিসাব বিলটি পরিচালনার জন্য সরকারকে প্রতি বছর প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা রাজস্ব দিতে হয়। এছাড়া পাহারাদারদের বেতন বাবদ বছরে প্রায় ৩৫-৪০ লক্ষ টাকা খরচ হয়। সব খরচ বাদে সমিতির সদস্যরা বছর শেষে প্রত্যেকে ১ থেকে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ পেয়ে থাকেন।

চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা সারা বছর বিলে ৭ থেকে ৮ ফিট পানি থাকে, ফলে মাছ চাষে পানির সংকট হয় না। তবে উদ্যোক্তাদের মতে, সরকারিভাবে যদি সহজ শর্তে ঋণ বা অনুদান পাওয়া যেত, তবে এই বিলে হাঁস-মুরগির খামারসহ আরও বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো।

স্থানীয় জমির মালিকদের সাথেও সমিতির সুসম্পর্ক রয়েছে। মাছ ধরার সময় জমির মালিকরা ন্যায্য মূল্যে বা কখনো উপহার হিসেবে মাছ পেয়ে থাকেন, যা গ্রামীণ সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ।

পাকুড়িয়া বিলের এই সফল মডেল গাইবান্ধার মৎস্য সম্পদে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।