কেউ যাদের খোঁজ নেয় না গাইবান্ধার মেহরুন্নেসা বৃদ্ধাশ্রম
বৃদ্ধাশ্রম
নিজস্ব প্রতিবেদক :
পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন, সহায়-সম্বলহীন বৃদ্ধ মা-বাবাদের শেষ বয়সের নিরাপদ ঠিকানা হয়ে দাঁড়িয়েছেন গাইবান্ধার আপেল মাহমুদ। ২০১৭ সালে নিজের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘মেহরুন্নেসা বৃদ্ধাশ্রম’। তবে বর্তমানে তীব্র অর্থ সংকটে বৃদ্ধাশ্রমটি পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই মানবিক উদ্যোগের বর্তমান করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে।
উদ্যোগের নেপথ্যে আপেল মাহমুদ জানান, নিজের এলাকায় এক বৃদ্ধের চরম কষ্ট দেখে তার মনে গভীর দাগ কাটে। যার সম্পদ নেই, শারীরিক শক্তিও ফুরিয়ে এসেছে, তার শেষ বয়সের যন্ত্রণার কথা ভেবেই তিনি এই বৃদ্ধাশ্রম করার সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে এই আশ্রমে ৩৯ জন বৃদ্ধ মা-বাবা রয়েছেন, যারা সন্তান, আত্মীয়-স্বজন ও সমাজ থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত।
স্মরণীয় সেই কষ্টের দিন বৃদ্ধাশ্রম পরিচালনার পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বরের একটি অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেদিন আশ্রমে ২৩ জন মা-বাবা থাকলেও ঘরে এক মুঠো চাল বা সবজি ছিল না। নিরুপায় হয়ে নিজের বাড়িতে গিয়ে মায়ের কাছ থেকে চাল-ডাল নিয়ে এসে তাদের খিচুড়ি রান্না করে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি।
বর্তমান সংকট ও পরিচালনা বর্তমানে ৩৯ জন বৃদ্ধের খাবার, চিকিৎসা, পোশাক এবং দেখাশোনার জন্য নিয়োজিত কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল ও জ্বালানি খরচ মেটানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থের মাত্র অর্ধেক দিয়ে কোনোমতে কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রায় প্রতি মাসেই চালের অভাব এবং কর্মচারীদের বেতন দিতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
বিত্তবানদের প্রতি আকুতি আপেল মাহমুদের স্বপ্ন, তিনি না থাকলেও যেন এই প্রতিষ্ঠানটি আজীবন টিকে থাকে এবং অসহায় মানুষের ছায়া হয়ে থাকে। তিনি সমাজের বিত্তবান ও সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন তারা সরাসরি বৃদ্ধাশ্রমটি পরিদর্শন করেন এবং এই মানবিক কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।
ঠিকানা যদি কেউ সরাসরি মেহরুন্নেসা বৃদ্ধাশ্রম পরিদর্শনে আসতে চান, তবে তার ঠিকানা: ছোট সোহাগী গ্রাম, ফুলবাড়ি ইউনিয়ন, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা, গাইবান্ধা জেলা।
যাদের কেউ নেই, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে আপেল মাহমুদ যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা টিকিয়ে রাখতে সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি।



