মাছ বড় করার অভিনব কৌশল

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পৈত্রিক পেশাকে আঁকড়ে ধরে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় মাছের রেনু ও পোনা উৎপাদনে সাফল্য পেয়েছেন গাইবান্ধার এক তরুণ উদ্যোক্তা। ‘ড্রাই পিজি’ (Dry PG) নামক বিশেষ হরমোন ব্যবহারের মাধ্যমে গুণগত মানসম্পন্ন মাছ উৎপাদন করে তিনি এখন এলাকার মাছ চাষিদের ভরসার প্রতীক। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই অভিনব কৌশলের বিস্তারিত উঠে এসেছে।

বাবার হাত ধরে হাতেখড়ি উদ্যোক্তা জানান, তার বাবা গত ৩০-৪০ বছর ধরে এই পেশার সাথে জড়িত। বাবার সাহস ও অনুপ্রেরণাতেই তিনি ৫ বছর আগে এই ব্যবসায় যুক্ত হন। শুরুতে ভয় থাকলেও বাবার অভিজ্ঞতার সঠিক প্রয়োগে তিনি সফল হন। বর্তমানে তার ভাইসহ পরিবারের সবাই এই হ্যাচারি ব্যবসার সাথে যুক্ত আছেন।

ড্রাই পিজি: মাছ বড় করার জাদুকরী কৌশল মাছকে শক্তিশালী ও দ্রুত বর্ধনশীল করতে তারা ‘ড্রাই পিজি’ হরমোন ব্যবহার করেন। এই হরমোন প্রয়োগ করলে মাছ অনেক শক্তিশালী হয় এবং যেকোনো পুকুরে মাছটি টেকসই হয়।

  • প্রয়োগ পদ্ধতি: স্ত্রী ও পুরুষ উভয় মাছকেই সিরিঞ্জের মাধ্যমে ইনজেকশন দেওয়া হয়। প্রথম ডোজের ৬ ঘণ্টা পর দ্বিতীয় ডোজ এবং তারও ৬-১০ ঘণ্টা পর মাছ ডিম দেয়।

  • ডিম সংগ্রহ: একটি প্রাপ্তবয়স্ক মাছ থেকে ২-৩ কেজি পর্যন্ত ডিম সংগ্রহ করা যায়। ডিম সংগ্রহের পর মাছগুলোকে ৫-৬ ঘণ্টা রেস্টে রেখে আবার পুকুরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মাছের বৈচিত্র্য ও বাজার তাদের হ্যাচারিতে রুই, মৃগেল, কাতল, সিলভার কাপ, ব্রিগেড ও সরপুঁটির মতো ‘বাংলা মাছ’ বেশি উৎপাদন করা হয়। এছাড়া মনোসেক্স তেলাপিয়া উৎপাদনের জন্য তারা বিশেষ হরমোন মিশ্রিত খাদ্য ব্যবহার করেন, যা মাছের বংশবিস্তার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে দ্রুত বড় হতে সাহায্য করে। তাদের উৎপাদিত পোনার সুনাম থাকায় বগুড়া, জয়পুরহাট, দিনাজপুর ও কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা থেকে চাষিরা এখানে মাছ নিতে আসেন।

বিনিয়োগ ও আয় সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা ইনভেস্ট করে তারা এই হ্যাচারিটি শুরু করেছিলেন। ব্যবসার আয় নির্দিষ্ট না থাকলেও খরচ বাদ দিয়ে মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বা সিজন অনুযায়ী ভালো বেনিফিট থাকে বলে তিনি জানান।

সফলতার মূলমন্ত্র উদ্যোক্তা মনে করেন, নিম্নমানের পাউডার ব্যবহার না করে পিজির মাধ্যমে গুণগত মানসম্পন্ন মাছ তৈরি করলে চাষিরা লাভবান হন এবং ব্যবসার সুনাম টিকে থাকে।

বাবার অভিজ্ঞতা আর ছেলের আধুনিক কৌশলে গাইবান্ধার এই হ্যাচারিটি এখন মাছ চাষিদের কাছে এক আস্থার নাম।