মালচিং পদ্ধতিতে গাইবান্ধার যুবকের সাফল্য

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছেন গাইবান্ধার এক কলেজ ছাত্র। আধুনিক ‘মালচিং’ পদ্ধতিতে শসা চাষ করে মাত্র কয়েক মাসেই তিনি আয় করেছেন লক্ষাধিক টাকা। তার এই সাফল্য দেখে এখন এলাকার অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন আধুনিক চাষাবাদে। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই তরুণ উদ্যোক্তার সফলতার গল্প উঠে এসেছে।

শুরুটা যেভাবে উদ্যোক্তা জানান, তার বাবা একজন কৃষক এবং বাবাকে দেখেই ছোটবেলা থেকে চাষাবাদের প্রতি তার আগ্রহ জন্মে। ইউটিউবে ভিডিও দেখে এবং এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে তিনি প্রথমবারের মতো ‘মালচিং’ পদ্ধতিতে শসা চাষের সিদ্ধান্ত নেন। ৩৫ শতক জমিতে এই প্রজেক্ট শুরু করতে তার খরচ হয়েছিল প্রায় ৮০ হাজার টাকা।

মালচিং পদ্ধতির সুবিধা সনাতন পদ্ধতির চেয়ে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ অনেক সহজ ও লাভজনক। এই পদ্ধতিতে জমিতে আগাছা পরিষ্কার করার বাড়তি ঝামেলা থাকে না এবং আগাছা পরিষ্কার করতে গিয়ে শসার শিকড় কাটার ভয়ও থাকে না। ফলে গাছ অনেক মজবুত ও স্বাস্থ্যবান থাকে।

অর্থনৈতিক সাফল্য রমজান মাসকে টার্গেট করে তিনি এই শসা চাষ শুরু করেছিলেন। প্রথম রমজানেই তিনি এক হাটে ৬২,৫০০ টাকার শসা বিক্রি করেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ২ লক্ষ টাকার কাছাকাছি শসা বিক্রি করেছেন এবং মৌসুম শেষে মোট ৩ লক্ষ টাকার মতো আয় হবে বলে আশা করছেন। রমজানের শুরুতে প্রতি মণ শসা প্রায় ২,৫০০ টাকা দরে বিক্রি করেছিলেন তিনি।

সামাজিক বাধা ও বর্তমান অবস্থান শুরুতে যখন তিনি এই প্রজেক্টে টাকা বিনিয়োগ করেন, তখন অনেকে তাকে ‘পাগল’ বলে উপহাস করেছিলেন। কিন্তু সফল হওয়ার পর এখন সবাই তাকে বাহবা দিচ্ছেন এবং আগামীতে আরও এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ জোগাচ্ছেন। তার এই খামারে বর্তমানে দুজন নিয়মিত শ্রমিকও কাজ করছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শসা চাষে সফল হওয়ার পর এখন তিনি মালচিং পদ্ধতিতে ওল চাষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা তাদের গ্রামে আগে কেউ করেনি। এছাড়া তার অন্যান্য জমিতেও পর্যায়ক্রমে আধুনিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন সবজি চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

একজন কলেজ ছাত্র হয়েও অলস সময় না কাটিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় কৃষিতে এই তরুণ যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা বেকার যুবকদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।