প্লাস্টিকের দাপটে অস্তিত্ব সংকটে স্টিলের বালতি শিল্প
ব্যাবসা
নিজস্ব প্রতিবেদক :
এক সময় প্রতিটি গৃহস্থালি ও কল-কারখানায় স্টিলের বালতির ছিল ব্যাপক চাহিদা। কিন্তু প্লাস্টিকের সস্তা ও সহজলভ্য পণ্যের দাপটে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি এখন বিলুপ্তির পথে। তা সত্ত্বেও গাইবান্ধার কিছু কারিগর আজও হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে এই প্রাচীন পেশাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে উঠে এসেছে এই ‘লস্ট ক্রাফট’ বা হারিয়ে যাওয়া কারুশিল্পের বর্তমান চিত্র।
নির্মাণ শৈলী ও স্থায়িত্ব স্টিলের বালতি তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ। প্রথমে স্টিলের পাত কেটে মাপমতো জোড়া দেওয়া হয়, এরপর মেশিন ও হাতের সাহায্যে গোল আকৃতি দিয়ে তার বা হ্যান্ডেল লাগানো হয়। একজন কারিগর জানান, একটি স্টিলের বালতি অনায়াসেই ১০ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। প্লাস্টিকের বালতি একবার ফেটে গেলে যেখানে ফেলে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই, সেখানে স্টিলের বালতির তলা পাল্টে বা ফুটো মেরামত করে আরও ৫-৬ বছর ব্যবহার করা সম্ভব।
প্লাস্টিকের চ্যালেঞ্জ ও বর্তমান বাজার বর্তমানে বিভিন্ন বড় কোম্পানি প্লাস্টিকের বালতি বাজারজাত করায় স্টিল শিল্পের ওপর বড় ধাক্কা এসেছে। এমনকি অনেক ডিটারজেন্ট বা পণ্যের সাথে প্লাস্টিকের বালতি 'ফ্রি' দেওয়ার ফলে সাধারণ মানুষ সেদিকেই বেশি ঝুঁকছে। কিন্তু ভারী ও শক্তপোক্ত কাজের জন্য সচেতন মানুষ আজও স্টিলের বালতিই পছন্দ করেন, কারণ এটি প্লাস্টিকের মতো ঠুনকো নয় এবং দীর্ঘস্থায়ী।
অর্থনৈতিক টানাপড়েন ও কাঁচামালের দাম ব্যবসায়ীরা বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এক সময় ২০ হাজার টাকায় এক টন কাঁচামাল কেনা যেত, এখন সেই মালের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। আগে যে বালতি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা ১৭০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। পুঁজি বা ক্যাশ ক্যাপিটাল না থাকায় নতুন মাল তোলাও কারিগরদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
পেশার টিকে থাকা ও অনিশ্চয়তা বর্তমানে এই পেশায় লাভ খুবই সামান্য। মাসে আয় হবে কি হবে না তার কোনো সঠিক নিশ্চয়তা নেই। সপ্তাহে হয়তো ১০ হাজার টাকার মাল বিক্রি হয়, কিন্তু খরচ বাদ দিয়ে হাতে থাকে খুব কম। তবুও দীর্ঘদিনের এই পেশা ছেড়ে অন্য কোনো ভারী কাজ করা এই কারিগরদের পক্ষে সম্ভব নয়। শরীর যতক্ষণ সায় দেয়, ততক্ষণ এই ঐতিহ্যবাহী কাজই তারা চালিয়ে যেতে চান।
বিবর্ণ হয়ে যাওয়া এই কুটির শিল্পটি রক্ষায় সরকারি সহায়তা ও সুলভ মূল্যে কাঁচামাল সরবরাহ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



