স্ত্রীর এক পরামর্শ বদলে দিলো ভাগ্য
উদ্যোক্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বেকারত্বের অভিশাপ যখন জীবনকে বিষিয়ে তুলছিল, ঠিক তখনই জীবনসঙ্গিনীর পরামর্শে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন গাইবান্ধার এক যুবক। মাত্র ১ লক্ষ টাকা দিয়ে শুরু করা সেই ব্যবসা ৫ বছরে ২৫ লক্ষ টাকার পুঁজিতে দাঁড়িয়েছে। নিজের ব্র্যান্ডের জুতা তৈরি করে তিনি এখন জেলার অন্যতম সফল উদ্যোক্তা। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই অভাবনীয় সফলতার গল্প উঠে এসেছে।
বেকারত্ব থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার পথ উদ্যোক্তা জানান, বিয়ের পর যখন বেকার ছিলেন, তখন জীবন চালানো ছিল অসম্ভব কষ্টের। সেই কঠিন সময়ে পরিবারের সাথে পরামর্শ করে কিস্তির মাধ্যমে কিছু টাকা তুলে ডিলারশিপ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন。 শুরুতে বাড়িতে নিজের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছোট আকারে জুতা তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন।
সংগ্রাম ও মার্কেটিংয়ের চ্যালেঞ্জ ব্যবসা শুরুর পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মার্কেটিং। প্রথম দিকে উৎপাদিত মাল বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে তিনি বেশ হিমশিম খেয়েছিলেন এবং কিছু লোকসানের মুখেও পড়েছিলেন। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। বর্তমানে তার কারখানায় ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতে অন্তত ১০০ জন লোকের কর্মসংস্থান করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি。
পণ্যের মান ও গ্যারান্টি ঢাকা থেকে উন্নত মানের কাঁচামাল এনে ডাইসের মাধ্যমে জুতা কাটিং ও প্রসেসিং করা হয়। বর্তমানে ‘ভাইরাল’ হওয়া স্টেপ ডিজাইনসহ এম্বুশ ও স্ক্রিন প্রিন্টের জুতা তৈরি করছেন তারা। পণ্যের মানের ওপর তার এতটাই আত্মবিশ্বাস যে, জুতার পেস্টিংয়ে কোনো সমস্যা হলে তিন মাসের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি প্রদান করেন তিনি।
পুঁজি ও ব্যবসায়িক বিস্তার পাঁচ বছর আগে মাত্র ১ লক্ষ টাকা দিয়ে শুরু করা এই ব্যবসা এখন ২৫ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গেছে。 বর্তমানে রংপুর, ভোলা, কুড়িগ্রাম, সৈয়দপুর ও ঢাকার সাভারে তাদের ডিলারশিপ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ডিলারের চাহিদা অনুযায়ী তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ডের জুতাও তারা তৈরি করে দেন。
নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পরামর্শ নতুনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরাসরি ফ্যাক্টরি দেওয়ার আগে মার্কেটিংটা ভালো করে বুঝতে হবে। যদি উৎপাদিত পণ্য বাজারে খাওয়ানো না যায়, তবে বড় লস হয়ে যাবে。 তাই আগে বাজার যাচাই করে তবেই বড় বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
স্ত্রীর সঠিক দিকনির্দেশনা আর নিজের কঠোর পরিশ্রমের সমন্বয়ে এই যুবক আজ সফলতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।



