পড়াশোনা না করেই ইঞ্জিনিয়ার

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পুঁথিগত কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি নেই, অথচ নিপুণ দক্ষতায় তৈরি করছেন বাসের বডি। ঢাকা থেকে দীর্ঘ ১২ বছর কাজ শিখে এসে নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন বাসের বডি তৈরির কারখানা। তার হাতে তৈরি গাড়ি এখন রাজপথ কাঁপাচ্ছে। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে উঠে এসেছে এই স্বশিক্ষিত কারিগরের জীবন সংগ্রামের গল্প।

শূন্য থেকে শুরু ও হাড়ভাঙা পরিশ্রম উদ্যোক্তা জানান, এক সময় ঢাকায় গিয়ে বাসের বডি তৈরির কাজ শেখা শুরু করেন। দীর্ঘ ১২ বছর সেখানে থেকে হেল্পারি করে কাজ শিখেছেন। কাজ শেখার শুরুর দিনগুলো ছিল অত্যন্ত কষ্টের; অনেক সময় খাবার জুটত না, নিজের খেয়ে কাজ শিখতে হয়েছে। পরবর্তীতে মাত্র ২,৭০০ টাকা বেতনে মিস্ত্রি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

নিজে স্বাবলম্বী, অন্যদেরও পথপ্রদর্শক ঢাকা থেকে ফিরে গাইবান্ধায় নিজের কারখানা গড়ে তোলেন। তার কারখানায় বর্তমানে কাজের চাপ অনুযায়ী ৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক কাজ করেন। শুধু তাই নয়, তার কাছ থেকে কাজ শিখে অনেক যুবক এখন সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতে গিয়ে ভালো আয় করছেন। তিনি নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন।

কাজের মান ও গ্রাহক সন্তুষ্টি বিদেশ থেকে ইঞ্জিনের চেসিস আসার পর বডি তৈরি, সিট বসানো থেকে শুরু করে রং করা পর্যন্ত সব কাজই এখানে সম্পন্ন করা হয়। একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন বডি তৈরি করতে সময় লাগে প্রায় ৪০ দিনের মতো। গাইবান্ধা ছাড়াও রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম ও বগুড়া থেকে মালিকরা এখানে গাড়ি নিয়ে আসেন। কাজে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেই গ্রাহকরা তার ওপর আস্থা রাখেন।

ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ ও আয় ব্যবসাটি সবসময় একরকম যায় না। কাজের ধরন অনুযায়ী কখনো মাসে ২০-৩০ হাজার টাকা লাভ থাকে, আবার অনেক সময় লসও হয়ে যায়। শুরুতে মাত্র ৩-৪ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে মিস্ত্রি হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তিনি 'শানে খোদা', 'ভাই বন্ধু' ও 'গোবিন্দগঞ্জ স্পেশাল'-এর মতো জনপ্রিয় পরিবহনের বডি তৈরি করেছেন।

ভবিষ্যৎ ভাবনা ডিজিটাল যুগে এসে এখন কাজ অনেক সহজ হয়েছে। নিজের পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে এখন তিনি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই আছেন। তার অধীনে কাজ করে আরও কয়েকজনের পরিবার চলছে—এটিই তার জীবনের বড় সার্থকতা বলে তিনি মনে করেন।

পড়াশোনা না করেও যে কেবল একাগ্রতা আর কঠোর পরিশ্রম দিয়ে একজন দক্ষ কারিগর হওয়া সম্ভব, গাইবান্ধার এই ‘ইঞ্জিনিয়ার’ তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ।