মোবাইল আসক্তি ছেড়ে ক্যানভাসে স্বপ্ন আঁকছে মারজিয়া

বর্তমান সময়ে শিশুরা যখন খেলার মাঠ ছেড়ে মোবাইল গেম আর ডিজিটাল স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকে, তখন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের খুদে শিল্পী মারজিয়া হক বেছে নিয়েছে রঙ আর তুলির এক মায়াবী জগত। পড়ার টেবিলের বইয়ের পাতায় আঁকিবুঁকি করা সেই ছোট্ট মেয়েটি এখন ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলছে চমৎকার সব 'টেক্সচার আর্ট'। মেয়ের এই সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে তাকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলছেন মা মীর শারমিন শিমু।

নিজস্ব প্রতিবেদক | গাইবান্ধা

বর্তমান সময়ে শিশুরা যখন খেলার মাঠ ছেড়ে মোবাইল গেম আর ডিজিটাল স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকে, তখন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের খুদে শিল্পী মারজিয়া হক বেছে নিয়েছে রঙ আর তুলির এক মায়াবী জগত। পড়ার টেবিলের বইয়ের পাতায় আঁকিবুঁকি করা সেই ছোট্ট মেয়েটি এখন ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলছে চমৎকার সব 'টেক্সচার আর্ট'। মেয়ের এই সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে তাকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলছেন মা মীর শারমিন শিমু।

মোবাইল আসক্তি থেকে সৃজনশীলতায় ফেরা

মারজিয়ার মা জানান, শিশুদের বাইরে খেলাধুলার সুযোগ কমে যাওয়ায় তারা ঘরে বসে মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ছিল। মেয়েকে এই ক্ষতিকর আসক্তি থেকে বের করে আনতেই তিনি তাকে ক্যানভাস, টেক্সচার পাউডার আর রঙ কিনে দেন। মারজিয়াও তার সৃজনশীল প্রতিভা দিয়ে সবাইকে অবাক করে দিতে শুরু করে।

মা মীর শারমিন শিমু বলেন: "আমি চাই আমার বাচ্চাটা একটা সৃজনশীল কাজের মধ্যে থাকুক। ওর ভেতরে ক্রিয়েটিভিটি সৃষ্টি হোক- এটাই ছিল আমার মূল উদ্দেশ্য।"

১২০০ টাকায় প্রথম সাফল্য ও বাণিজ্যিক যাত্রা

শুরুতে ঘর সাজানোর শখ থেকে পেইন্টিং করলেও মারজিয়ার আঁকা প্রথম ছবিটিই ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় তাদের বাণিজ্যিক চিন্তা। স্থানীয় বিভিন্ন মেলায় মারজিয়ার শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়েছে এবং জেলা প্রশাসকের (ডিসি) প্রশংসা কুড়িয়েছে। এখন প্রতিবেশীদের পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমেও ফরমায়েশ আসছে।

ঘরোয়া স্টুডিওতে শৈল্পিক কর্মযজ্ঞ

নিজেদের ঘরেই কাঠের ফ্রেম তৈরি করে তাতে টেক্সচার পাউডার ও জল রঙের মাধ্যমে নান্দনিক ওয়াল পেইন্টিং তৈরি করে মারজিয়া। একটি ছবি তৈরিতে কখনো এক দিন আবার কখনো তিন দিন পর্যন্ত সময় লাগে। পড়াশোনার কোনো ক্ষতি না করেই মারজিয়া তার এই শখকে আয়ে রূপান্তর করেছে। বর্তমানে ঘরোয়া এই উদ্যোগ থেকে মাসে প্রায় ৩,০০০ টাকার মতো আয় হচ্ছে।

উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা

মারজিয়ার মা মনে করেন, প্রতিটি মানুষের ভেতরেই আলাদা কোনো না কোনো সৃজনশীল প্রতিভা থাকে। সেই প্রতিভাকে পুঁজি করে ঘর থেকেই ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। বর্তমানে তাদের তৈরি একটি পেইন্টিংয়ে ৭০০ টাকা খরচ হলে সেটি লাভসহ ৯০০-৯৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়।

অবস্থান ও যোগাযোগ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাইহাট ইউনিয়নের এই খুদে শিল্পীর কাজগুলো ফেসবুক পেজ বা অনলাইনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা যাচ্ছে। গাইবান্ধার এই খুদে শিল্পীর গল্পটি প্রমাণ করে যে, সঠিক দিকনির্দেশনা আর অনুপ্রেরণা পেলে শৈশব থেকেই সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছানো সম্ভব।