৩০০ টাকার হাত খরচ থেকে মাসে লাখ টাকা আয় !
মাত্র ৩০০ টাকা দিয়ে কি কোনো বড় স্বপ্ন দেখা সম্ভব? অনেকের কাছে এটি অবিশ্বাস্য মনে হলেও গাইবান্ধার এক দম্পতি তা বাস্তবে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। ২০২০ সালে করোনার সময় স্বামীর দেওয়া মাত্র ৩০০ টাকা হাত খরচ থেকে শুরু হওয়া একটি ক্ষুদ্র উদ্যোগ আজ মাসে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। ‘স্বপ্ন আঁকা’ নামক এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এখন স্বাবলম্বী হচ্ছেন কয়েকশ নারী।
নিজস্ব প্রতিবেদক | গাইবান্ধা :
মাত্র ৩০০ টাকা দিয়ে কি কোনো বড় স্বপ্ন দেখা সম্ভব? অনেকের কাছে এটি অবিশ্বাস্য মনে হলেও গাইবান্ধার এক দম্পতি তা বাস্তবে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। ২০২০ সালে করোনার সময় স্বামীর দেওয়া মাত্র ৩০০ টাকা হাত খরচ থেকে শুরু হওয়া একটি ক্ষুদ্র উদ্যোগ আজ মাসে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। ‘স্বপ্ন আঁকা’ নামক এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এখন স্বাবলম্বী হচ্ছেন কয়েকশ নারী।
শুরুর সেই ৩শ টাকা ও বদলে যাওয়া জীবন
উদ্যোক্তা দম্পতি জানান, ২০২০ সালে করোনাকালে লকডাউনের সময় স্ত্রী তার স্বামীর কাছ থেকে হাত খরচের জন্য মাত্র ৩০০ টাকা পেয়েছিলেন। সেই টাকা দিয়ে কাপড় কিনে নিজের জন্য একটি জামা তৈরি করেছিলেন তিনি। সেই জামার ডিজাইন দেখে পরিচিতরা অর্ডার দিতে শুরু করেন। এভাবেই ঘরোয়াভাবে শুরু হয় তাদের ব্যবসার হাতেখড়ি।
করোনাকালে স্বামীর চাকরী চলে যাবার পর ভীষণ হতাশায় পড়েছিলেন এই নারী উদ্যোক্তা। কিন্তু আজ আর জীবন নিয়ে তাদের স্বামীর স্ত্রীর কোনো অভিযোগ নেই। তিনি এখন একজন সফল ব্যবসায়ী।
ব্যবসায় স্বামী-স্ত্রীর অনন্য পার্টনারশিপ
এই ব্যবসার মূল চালিকাশক্তি হলো স্বামী ও স্ত্রীর সমান অংশগ্রহণ। ব্যবসায় তারা একে অপরের ৫০ শতাংশের অংশীদার। স্বামী সামলান মার্কেটিং ও ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর, আর স্ত্রী সামলান ডিজাইন ও কারখানার উৎপাদন। একত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে নারী উদ্যোক্তা বলেন: "হাজবেন্ড-ওয়াইফ একসঙ্গে কাজ করার সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, আমরা ঝগড়া করার সুযোগই পাই না। কাজের চাপে মান-অভিমান হলেও কাস্টমারের কলের প্রয়োজনে আমাদের কথা বলতেই হয়।"
পণ্যের বিশেষত্ব ও কর্মসংস্থান
তাদের কারখানায় তৈরি হচ্ছে:
-
পিওর বলাকা সিল্কের শাড়ি: নিখুঁত সুতার কাজ ও ফিনিশিং।
-
সেমি মসলিন: সুতার কাজ ও ডলার ওয়ার্কের সংমিশ্রণ।
-
হ্যান্ড পেইন্ট ও ব্লক-বাটিক: আধুনিক ও নান্দনিক ডিজাইন।
বর্তমানে তাদের প্রধান কারখানায় সরাসরি ১০ জন কর্মী কাজ করছেন। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন নারী কর্মী সুতার কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
বর্তমানে তাদের মাসিক গড় বিক্রি ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা। তারা প্রতিটি পণ্যের মান ১০০% নিশ্চিত করে বাজারজাত করেন। তাদের লক্ষ্য, দেশি এই পণ্যগুলোকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়া। বেকার দম্পতিদের উদ্দেশ্যে তাদের পরামর্শ- হতাশ না হয়ে দুজনে মিলে ছোট থেকে কিছু শুরু করলে এবং একে অপরের ওপর বিশ্বাস রাখলে অবশ্যই সাফল্য আসবে।



