গার্মেন্টস চাকরি ছেড়ে আধুনিক কাঠমিস্ত্রি সিএনসি মেশিনে ভাগ্য বদলের গল্প

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

এক সময় ঢাকা শহরে গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে জীবন শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই যান্ত্রিক জীবন আর পরনির্ভরশীলতা ছেড়ে নিজের গ্রামেই গড়ে তুলেছেন আধুনিক ফার্নিচার তৈরির কারখানা। সিএনসি (CNC) মেশিনের সহায়তায় কাঠ ও বোর্ডের নকশা করে এখন তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। গাইবান্ধার এই আধুনিক কাঠমিস্ত্রির সফলতার গল্প উঠে এসেছে ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে।

গার্মেন্টস থেকে কাঠের কারিগর উদ্যোক্তা জানান, এক সময় তিনি ঢাকায় গার্মেন্টস চাকরি করতেন। কিন্তু সবসময়ই নিজের এলাকায় কিছু করার তাগিদ অনুভব করতেন। সেই চিন্তা থেকেই গ্রামে ফিরে শুরু করেন কাঠমিস্ত্রির কাজ। তবে সনাতন পদ্ধতিতে হাত দিয়ে নকশা করা ছিল অত্যন্ত পরিশ্রমের ও সময়সাপেক্ষ। সেই বাধা দূর করতেই তিনি আধুনিক প্রযুক্তির মেশিনের ব্যবহার শুরু করেন।

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দ্রুত উৎপাদন মেশিনের ব্যবহারের ফলে এখন কাজ অনেক সহজ ও দ্রুত হয়েছে। তিনি জানান, একজন দক্ষ কাঠমিস্ত্রির হাতে একটি শোকেস বানাতে যেখানে ৭ দিন সময় লাগে, সেখানে মেশিনের সাহায্যে দ্রুত ৩টি শোকেস তৈরি করা সম্ভব। এতে যেমন শ্রম কম লাগে, তেমনি ফিনিশিংও অনেক উন্নত হয়।

পণ্যের সমাহার ও বাজারমূল্য তার কারখানায় মেলামাইন বোর্ড এবং লিগার বোর্ডের মাধ্যমে খাট, শোকেস, ওয়ারড্রোব, ড্রেসিং টেবিল ও আলমারিসহ সব ধরনের আসবাবপত্র তৈরি হয়।

  • ড্রেসিং টেবিল: ২,৫০০ থেকে ৮,০০০ টাকা পর্যন্ত।

  • শোকেস: ৫,০০০ থেকে ১২,০০০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে কাঠের তৈরি একটি উন্নত মানের শোকেস ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা সম্ভব বলে তিনি জানান।

চ্যালেঞ্জ ও অভিজ্ঞতা ব্যবসার শুরুতে তাকে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। পরিচিতি পাওয়ার জন্য শুরুতে মানুষের কাছে গিয়ে পণ্যের নমুনা দেখাতে হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই ব্যবসায় সফল হতে হলে আগে নিজে কাজ শিখতে হবে এবং অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, অন্যথায় লোকসানের ঝুঁকি থাকে।

সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রায় ১২-১৩ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে এই ব্যবসায় যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। বর্তমানে মাসে তার ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় হয়। তার তৈরি আসবাবপত্র এখন গাইবান্ধার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়িয়ে উল্লাবাজার, বাদিয়াখালি ও বোনারপাড়া পর্যন্ত যাচ্ছে। সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে ভালো কোনো অবস্থানে দেখার স্বপ্ন দেখেন এই পরিশ্রমী বাবা।

পরিশ্রম আর আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে এই সাবেক গার্মেন্টস কর্মী আজ গাইবান্ধার একজন সফল আসবাবপত্র ব্যবসায়ী।