মৌসুমী ফল বাঙ্গি চাষে লাভের আশা
কৃষি
নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রীষ্মের তাপদাহে শান্তি ও স্বস্তি ফেরাতে জুস কিংবা কাঁচা খাওয়ার জন্য বাঙ্গির জুড়ি মেলা ভার। উত্তর জনপদের বালুচরে ও পলল মাটিতে ঐতিহ্যগতভাবে এই সুস্বাদু ফলটির চাষ করে আসছেন স্থানীয় কৃষকরা। সামান্য পুঁজি ও পরিশ্রমে ফলানো এই বাঙ্গি কেবল কৃষকদের বাড়তি আয়ের জোগানই দিচ্ছে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ফেলছে দারুণ ইতিবাচক প্রভাব।
কৃষকদের ভাষ্যমতে, সার, ওষুধ ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে ১০-১৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে বাঙ্গি চাষ করা হয়। গাছ প্রতি ৫ থেকে ৮টি পর্যন্ত বাঙ্গি ধরে এবং তিন দফায় পরিপক্ব ফল সংগ্রহ করা হয়। তবে কুয়াশা, অতিরিক্ত খরা কিংবা বর্ষার কারণে অনেক সময় ফলন ও গাছের বৃদ্ধিতে বিঘ্ন ঘটে। গত বছর যেখানে প্রায় ৬০ হাজার টাকার ফল বিক্রি হয়েছিল, সেখানে এবার আবহাওয়া জনিত কারণে ফলন কিছুটা কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চাষিরা। দেশি ফ্রেশ বাঙ্গি এবং পারুয়া জাতের বাঙ্গির ব্যাপক চাহিদা থাকায় রংপুর, গাইবান্ধা ও মিরগঞ্জ থেকে পাইকাররা পিকআপ ভ্যান নিয়ে সরাসরি জমি থেকেই তা কিনে নিয়ে যান। ক্ষেতে ফল ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে সময়মতো তা তুলে ঘরে বা নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করতে হয়।
ধান কাটা কিংবা অন্যান্য ফসলের মধ্যবর্তী সময়ে বাঙ্গি চাষ কৃষকদের হাতে এককালীন নগদ অর্থ এনে দেয়, যা তাদের পারিবারিক সচ্ছলতা বজায় রাখতে বড় ধরনের সহায়তা করে।